সোনাগাজীতে ২০ হাজার টাকা নিয়ে প্রবাসী প্রেমিকের বাড়ি ছাড়লেন নীলফামারির সেই তরুণী
জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি,

ফেনীর সোনাগাজীতে ফেসবুকে প্রেমের সূত্র ধরে ওমান প্রবাসী যুবক আরিফ হোসেনের বাড়িতে অবস্থান নেওয়া নীলফামারি জেলার ২২ বছর বয়সী সেই তরুণী যুবকের স্বজনদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে প্রেমিকের বাড়ি ছেড়ে নিজ বাড়িতে চলে গেছেন। ১৮ জুন বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি ওই বাড়ি ত্যাগ করেন।
১৬ জুন রাত ১১টা থেকে ওই তরুণী ওই যুবকের বাড়িতে ঘরের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন। সে ঘরে ঢুকতে চাইলে ওই সময়ে ঘরে তালা লাগিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন ওই যুবক ও তার পরিবারের সদস্যরা। উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের আবদুল আজিজ সারেং বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।
তরুণীকে পাহারা দিয়েছিল ৭নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ রাকিব নামের এক যুবক। ওই তরুণীকে হ্যানিট্র্যাপের সদস্য, দুশ্চিরিত্রা ও প্রতারক আখ্যা দিয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাযের করেছিল ওই যুবকের মা নারগিস আক্তার।
ওই যুবকের আত্মীয় জাহাঙ্গীর আলম জানান, সোনাগাজী মডেল থানার তপু নামে এক এসআইয়ের ইন্ধনে ওই তরুণী ওই যুবকের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে বাড়ি ছাড়ছিলেননা।
পরে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ওই তরুণীকে ২০ হাজার টাকা নগদ প্রদান করলে সে নিজ বাড়িতে চলে যান। আরিফ ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের আবদুল আজিজ সারেং বাড়ির সাহাব উদ্দিনের ছেলে।
তরুণী মোসাম্মৎ ফেরদৌসী আক্তার (২২) নীলফামারি জেলার সৈয়দপুর থানার ৭নং ওয়ার্ডের মশরত ধলিয়া সর্দার পাড়ার মো. কালার কন্যা।
পুলিশ, এলাকবাসী, তরুণী ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, আরিফ হোসেন তিন বছর পূর্বে জীবীকার তাগিদে ওমান যান। গত এক বছর পূর্বে ফেসবুকের মেসেঞ্জারে ওই তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সে থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক মাস পূর্বে আরিফ দুই মাসের ছুটিতে দেশের বাড়িতে আসেন। আরিফ দেশে আসার খবর শুনে ওই তরুণী গত ১৫ দিন পূর্বে তার সঙ্গে দেখা করতে ফেনীর মহিপালে আসেন।
তরুণীকে সরাসরি দেখার পর ওই যুবকের পছন্দ না হওয়ায় তাকে বুঝিয়ে তার পিতার বাড়িতে সৈয়দপুর দিয়ে আসেন ওই যুবক। সেখান থেকে নিজের বাড়িতে ফিরে আরিফ তার ফেসবুক আইডি ও মুঠোফোন বন্ধ করে ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
ওই তরুণী ওই যুবকের বন্ধু শিবলু নামে এক যুবকের কাছ থেকে বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে প্রেমিক আরিফের বাড়িতে ওঠেন। ওই তরুণী তার ঘরে ঢুকতে চাইলে আরিফ সহ তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে অন্যত্র চলে যান।
ওই যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে রাতেই পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিলে সোনাগাজী মডেল থানার এসআই তপু আহমদের নেতৃত্বে পুলিশদল ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে যুবকের পরিবারের কোন সদস্যকে না পেলেও তিনি তরুণীর বক্তব্যেের ভিডিও ধারণ করে ফের থানায় চলে যান। তিনি মৌখিক ভাবে পাহারা দেওয়ার জন্য স্থানীয় গ্রাম পুলিশ রাকিবকে নির্দেশ দেন।
এদিকে তরুণীর কারণে যুবকের পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকতে পারছেননা বলে দাবি তাকে হ্যানিট্র্যাপের সদস্য, দুশ্চরিত্রা ও প্রতারক আখ্যা দিয়ে ১৭জুন বুধবার রাতে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই যুবকের মা নারগিস আক্তার।
ওই তরুণী বলেছিল, বিয়ের কথা বলে ওই যুবক তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে গড়েছে। কিন্তু সে আমাকে দেখার পর থেকে বিয়ে না করার জন্য নানা টালবাহনা করছেন। আমি তার বাড়িতে আসার পর ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে সে তার পিতা-মাতাকে নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। সে আমাকে বিয়ে করা ছাড়া আমি তার বাড়ি ছাড়বোনা। ওই যুবকের মা নারগিস আক্তার বলেন, আমরা দরিদ্র পরিবারের লোক।
ধারদেনা করে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে আমার ছেলেকে ওমান পাঠিয়েছি। এখনও কর্জ পরিশোধ করতে পারিনি। ওই তরুণী একজন হ্যানি ট্র্যাপের সদস্য। ফেসবুকে এক সুন্দরী নারীর ছবি দিয়ে আইডি খুলে আমার ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এখন সে বিয়ের স্বপ্ন দেখছেন।
আমার স্বামী মতিগঞ্জ আরএম হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে কোন রকম সংসার চালায়। ভাঙা ঘরে দিন যাপন করছি। ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর কর্জও পরিশোধ করতে পারিনি। তাকে বিয়ে করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমার ছেলে যদি প্রেম করে কোন অপরাধ করে থাকে, তাহলে সে আমার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করুক। আইনগত ব্যবস্থা নিক। আমিও আইনহত প্রতিকার পেতে থানায় লিখিত আবেদন করেছি।