সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও কর্মচারী সঙ্কটে ধুঁকছে রোগীরা
জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীর ৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মচারী সঙ্কটে ধুঁকছে রোগীরা। তাদের প্রাপ্য স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। রোগীদের চাপ সামলাতে গিয়ে রিতিমত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছেন।চিকিৎসক সহ জনবল সঙ্কট নিরসনে বারবার চিঠি চালাচালি করেও ব্যর্থ হচ্ছেন তারা।
প্রায় ৪লাখ লোকের বসবাস এই উপজেলায়। উপকূলীয় উপজেলা হিসেবে স্বাস্থ্য সম্পর্কেও তেমন একটা সচেতন নয় এই জনপদের মানুষ। প্রতিদিন গড়ে আন্ত:বিভাগে ৭০-৮০ জন এবং বহির্বিভাগে ৪০০-৫০০ জন রোগী এই হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসেন।
হাসপাতালে ২৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ৬ জন।মেডিকেল অফিসার সাত জনের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ৩ জন। কনসালটেন্ট ১১জনের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ৩ জন। মিডওয়াইফ ৯জনের মধ্যে আছেন মাত্র একজন। নার্স ২৫ জনেরধ্যে আছেন ১৯ জন। পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৬ জনের মধ্যে আছেন মাত্র একজন। আয়া তিনটি পদে তিনটিও শূন্য রয়েছে। ওয়ার্ড বয় ৬জনের মধ্যে আছেন মাত্র একজন। নিরাপত্তাপ্রহরী তিনজনের মধ্যে তিনজনই শূন্য।
২০১২ সালে ৩১ শয্যা থেকে উন্নীত হয়ে ৫০ শয্যা হাসপাতালে পরিণত করা হলেও হাসপাতালটি এখনো ৩১ শয্যার জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামে চলছে। ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে চালু হলেও এখন পর্যন্ত ৫০ শয্যার জনবল বা চিকিৎসা সরাঞ্জাম মিলেনি।
এক্সরে মেশিনটি দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ বিকল হয়ে পড়ে আছে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে একজন তত্বাবধায়ক, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, জুনিয়র কনসালটেন্ট, শিশু ও গাইনি কনসালটেন্ট, মেডিক্যাল অফিসার, মেডিসিন, সহকারি সার্জারি ও ডেন্টাল সার্জন সহ ২৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু রয়েছেন মাত্র ৬ জন চিকিৎসক।
হাসপাতালে চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি থেকেও বাহির থেকে বিভিন্ন চেম্বার বা ক্লিনিকের চিকিৎসকের সরানাপন্ন হচ্ছেন।
সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ৫০শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও এখনো সে তুলনায় জনবল ও চিকিৎসা সরাজ্ঞাম সরবরাহ করা হয়নি। ফলে চিকিৎসা দেয়ার প্রবল ইচ্ছা থাকলেও রোগীদের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। বারবার চিঠি দিয়েও জনবল পাচ্ছিনা। অপরদিকে হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ রেখে ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ায় পুরাতন ভবনে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। টিনের ঘরে জরুরি বিভাগ চালু করে অনেক কষ্টে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।