১০ দফা প্রস্তাব মানতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ‘বিজয়’ দাবি ইরানের
অনলাইন ডেস্ক।।

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ৪০ দিনের সংঘাত শেষে “ঐতিহাসিক ও চূড়ান্ত বিজয়” অর্জনের দাবি করেছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা Supreme National Security Council (SNSC) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। খবর- প্রেস টিভি।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, “শত্রু এমন এক পরাজয়ের মুখে পড়েছে, যেখানে তাদের সামনে আত্মসমর্পণ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।”
ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র মূলত যেসব শর্ত মেনে নিতে সম্মত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো আগ্রাসন না চালানো
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্বীকৃতি
সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব বাতিল
ক্ষতিপূরণ প্রদান
অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার
লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৪০ দিনের সংঘর্ষ ছিল “ইতিহাসের সবচেয়ে ভারী সম্মিলিত যুদ্ধগুলোর একটি”, যেখানে ইরান ও তাদের মিত্ররা—লেবানন, ইরাক, ইয়েমেন ও ফিলিস্তিন অঞ্চলে—শত্রুপক্ষের ওপর ব্যাপক আঘাত হেনেছে।
SNSC দাবি করে, যুদ্ধ শুরুর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পারে যে তারা এই যুদ্ধে জিততে পারবে না এবং এরপর থেকেই বিভিন্ন মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির জন্য যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের জন্য সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে যদি ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক ও নিরাপদভাবে খুলে দেয়।
উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে, যা সাম্প্রতিক সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ইস্যু হয়ে উঠেছে।
ইরানের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, আয়াতুল্লাহ Mojtaba Khamenei-এর নির্দেশনা অনুযায়ী এবং SNSC-এর অনুমোদনে পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad-এ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এই আলোচনা আগামী শুক্রবার শুরু হয়ে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ চলবে। তবে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, এটি যুদ্ধের সমাপ্তি নয়; বরং আলোচনায় তাদের শর্ত পূরণ না হলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হবে।
বিবৃতিতে দেশটির জনগণকে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং বলা হয়েছে, “যদি আলোচনায় এই বিজয় রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিত হয়, তাহলে এটি হবে একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। অন্যথায় যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।”
সব মিলিয়ে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা, অন্যদিকে ইরানের বিজয়ের দাবি—এই দুই ভিন্ন অবস্থানের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চয়তায় ঘেরা।
সূত্রঃ বিডি24লাইভ
আই/অননিউজ২৪।।