বাগমারার ভ্যানচালক ফারুকের মৃত্যু নির্যাতনের প্রমাণ মিলেনি

বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

কারা হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাগমারার ভ্যানচালক ওমর ফারুকের মৃত্যুর বিষয়ে ময়না তদন্তের রিপোর্টে তাকে শারীরিক নির্যাতনের কোন প্রমাণ মিলেনি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিফ মেডিসিন বিভাগের লেকচারার ড. শারমিন সোবহান কাদেরী সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেছেন, ওমর ফারুক একজন ডায়াবেটিসের রোগী ছিলেন। তার কিডনী ও হার্ডের সমস্যা ছিল। এছাড়া তার শারীরিক আরও অন্যান্য সমস্যাও ছিল। তার মুত্যুর বিষয়ে ময়না তদন্ত আমি নিজেই করেছি। তাতে সুরতাহাল রিপোর্টে তাকে শারীরিক নির্যাতনের কোন প্রমাণ বা আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তার শরীরে হালকা ছোলার মত গোল গোল কিছু দাগ ছিল।

তবে সেই দাগগুলো অনেক আগের পুরাতন। তার পায়ে লোহার পেরেক ঢুকিয়ে দেওয়ার মত কোন ক্ষত বা চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাছাড়া তার পায়ূ পথে মরিচের গুড়া ঢুকিয়ে দেওয়ার মত কোন আলামতও পাওয়া পাওয়া যায়নি। মুলত কিডনী ও হার্ডের সমস্যাজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। কারণ তিনি যেহেতু ডায়াবেটিসে আকèান্ত রোগী ছিলেন।

এদিকে শারীরিক নির্যাতনে ওমর ফারুককের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করে তার বাবা ভবানীগঞ্জ পৌরসভার চাঁনপাড়া মহল্লার মোসলেম সরদার বাদী হয়ে ভবানীগঞ্জ সিএনজি মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম ও সম্পাদক আব্দুল মতিনসহ ওই সমিতির ১২ জন সদস্যের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে গত ২৫ ডিসেম্বর বাগমারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার আরজিতে বলা হয়, ভ্যানচালক ওমর ফারুককে গত ১৭ ডিসেম্বর ভবানীগঞ্জ সিএনজি স্ট্যান্ডে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এছাড়া তার দুই পায়ে হাতুড়ি দিয়ে দুই ইঞ্চির ৮-১০ টি লোহার পেরেক ও পায়ূ পথে মরিচের গুড়া ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর তাকে গাঁজা ব্যবসায়ী হিসাবে উপজেলা সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) অবহিত করা হলে ভাম্যমান আদালত কর্তৃক তাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। রাজশাহীর কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগের সময় সে অসুস্থ্য হলে কারা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে তাকে গত ২০ ডিসেম্বর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যান।

আরো দেখুনঃ