জুড়ীতে মা ও শিশু সন্তান আত্মহত্যা প্ররোচনা, গ্রেফতার ১

মোঃ জাকির হোসেন জুড়ী প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ীতে মা ও তার শিশু সন্তান আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলার আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৯। রোববার (১৮ জানুয়ারি) সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কদমতলি এলাকা থেকে কুতুব উদ্দিন) নামের ওই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত কুতুব উদ্দিন মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের উত্তর বড়ডহর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে জুড়ী থানা পুলিশ তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। একই দিন দুপুরে র‌্যাব এ তথ্য নিশ্চিত করে।

র‌্যাব জানায়, ভিকটিম মরিয়ম আক্তার মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী থানাধীন জাঙ্গালিয়া এলাকার বাসিন্দা। ২০২০ সালে মরিয়ম আক্তারের সঙ্গে কুতুব উদ্দিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত।

র‌্যাবের তথ্যমতে, মরিয়ম আক্তার বিভিন্ন সময় পিতার বাড়িতে যেতে চাইলে কুতুব উদ্দিন তাকে সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা বলতেন। এমনকি ২০২৩ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি মরিয়মের মা মারা গেলেও কুতুব তাকে মায়ের মরদেহ দেখতে যেতে দেননি।

২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাতে মরিয়ম ও কুতুব উদ্দিনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করে মরে যাওয়ার কথা বলেন। এরপর কুতুব উদ্দিন দোকানে চলে যান। ওই দিন সন্ধ্যায় মরিয়মের পিতা এলাকার ইউপি সদস্য সায়েদুর রহমানের মাধ্যমে মোবাইল ফোনে খবর পান যে মরিয়ম আক্তার ও তার চার বছর বয়সী ছেলে আয়ান মোহাম্মদ তোহা গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছে।

পরবর্তীতে ভিকটিমের পিতা স্থানীয় পুলিশ ও মেম্বার সায়েদুর রহমানকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে যে রান্নাঘরের আড়কাটের সাথে পৃথক দুটি ওড়না দিয়া তারা ঝুলে আছে।

ভিকটিমের পিতার ধারণা পারিবারিক কলহের জেরে এবং ভিকটিমকে তার বাচ্চাসহ প্রায় সময় মরে যাওয়ার জন্য প্ররোচনা দেওয়ায় তার মেয়ে ও নাতি ফাঁসিতে ঝুলে মারা গেছে। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মৌলভীবাজারের জুড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

আরো দেখুনঃ