কাশিয়াডাঙ্গা কলেজ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষের বক্তব্য

রাজশাহী প্রতিনিধি

গত ২০ জানুয়া রি ২০২৬ ইং তারিখে দৈনিক বার্তা, সানশাইন, রাজশাহী সংবাদ, নতুন প্রভাত ও সোনার দেশ পত্রিকা এবং উত্তরভূমি অনলাইন প্রকাশনা এবং গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ যুগান্তর- এর অনলাইন সংস্করণসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে রাজশাহীর পবা উপজেলার অর্ন্তগত কাশিয়াডাঙ্গা কলেজ ও কলেজের অধ্যক্ষের নাম জড়িয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা আদৌ সঠিক নয়। প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে কলেজের অধ্যক্ষ মো: আব্দুল করিম শাহ বুধবার একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিটি সকলের অবগতির জন্য নিন্মে তুলে ধরা হলো- আদালতে সৃজিত ১৮ সি/ ২৬ (কাশিয়াডাঙ্গা) মামলার বাদি-বাদিদের সাথে কলেজের অধ্যক্ষ কখনও উগ্র ও মারমুখী কোন আচরণ করেননি। বরং অভিযোগকারীরা বা সৃজিত ওই মামলার বাদি ও তার লোকজন আদালতে ২৭২/ ২০২২ অ. প্র. মামলার বিচারাধীন মামলার জমি ও এর দক্ষিণ পাশে রাস্তার ধারে কলেজের গেট সংলগ্ন জলাধারে (নয়নজুলি) বালু ভরাট করতে থাকে। এই সময় তাদেরকে চলমান মামলার কথা বলে বালু ভরাট বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়। এই অনুরোধ উপেক্ষা করে তারা বালু ভরাট চালু রাখে।

বিষয়টি হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয় জানার পর আদালতের বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ভরাট বন্ধ রাখতে বলেন। তারপরও তারা গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ওই জমিতে ভবন নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট করতে পাইলিং শুরু করে। এ সময় কলেজের সভাপতি’র পরামর্শে কাশিয়াডাঙ্গা থানায় আইনি সহয়তা চাওয়া হলে পুলিশ গিয়ে পাইলিং কাজ বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পবা, রাজশাহী মহোদয় সরেজমিনে জমিটি পরিদর্শন করে কোনো স্থাপনা নির্মাণ হবে না মর্মে মৌখিকভাবে নিষেধাজ্ঞা দেন। সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ৭ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে রাতের আঁধারে অভিযোগকারীরা ভেকু দিয়ে আবারও বালু ভরাট কাজ শুরু করলে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে আইনি সহায়তা চাওয়া হয়। তারপরও তারা ভরাট কাজ ও জমি দখল করে। অথচ কাশিয়াডাঙ্গা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জমি দখলের মিথ্যা অভিযোগ করা হয়, যা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি কাশিয়াডাঙ্গা কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সর্বোপরি অধ্যক্ষের মানহানিকর বটে।

বিরোধপূর্ণ জমিটি কলেজের সীমানার বাইরে ও গোয়ালপাড়া মৌজার বলে যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচার মাত্র। প্রকৃতপক্ষে গত ১১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে পবা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আদালত নিযুক্ত অ্যাডভোকেট কমিশনারের উপস্থিতিতে বিরোধপূর্ণ জমিটি জরিপ করেন। জরিপে কাশিয়াডাঙ্গা মৌজার ১ নং খতিয়ানের ৪১৫ নম্বর দাগে পড়ে। তদুপরি আদালতে সৃজিত ১৮ সি/ ২৬ (কাশিয়াডাঙ্গা) মামলার বাদি-বাদিপক্ষ ২৭২/ ২০২২ অ. প্র. নম্বর আদালতে বিচারাধীন মামলার জমিটি দখল করে নিয়েছে।

অথচ গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় চ্যালেন ঝ- এ আমাকে ভূমিদস্যু ও আওয়ামী প্রেতাত্তা আখ্যায়িত করে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে আমার (অধ্যক্ষ) বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। কারণ আমি কোন প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষ পদ বাগিয়ে নেইনি, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পূর্ণ বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত হই। এ ধরনের অপপ্রচার হেয় ও মানহানিকর এবং কলেজ পরিচালনায় ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশে বিঘœ সৃষ্টির একটি হীন চক্রান্ত বটে। কাজেই কলেজের অধ্যক্ষ মো: আব্দুল করিম শাহ বিবৃতির মাধ্যমে এ ধরণের মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে

আরো দেখুনঃ