সোনাগাজীতে পরিবেশ মন্ত্রীর নির্দেশে জলদাসদের পাশে দাঁড়ালেন যুবদল নেতারা
জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্দেশে জলদাসদের পাশে দাঁড়ালেন সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা ও পৌর যুবদলের সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান রাসেল হামিদি। তারা শনিবার বিকালে সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে জলদাসদের পাশে থাকার অভয় দেন।
সোনাগাজী উপজেলার বড় ফেনী নদীর একাংশ জবর দখল করে রখোন্দকার গ্রামের জেলে সম্প্রদায়কে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের অপচেষ্টা চালিয়েছেন নুর আহমদ নামে এক ভূমি দস্যু। সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের জলদাস পাড়ায় প্রায় অর্ধশত জলদাস বিগত ৫০ বছরের অধিক সময় থেকে নদীর তীরে বসতবাড়ি করে বসবাস করে আসছেন। নদীদে মাছ ধরে তারা জীবিকা নির্বাহ করেন।
তাদের পাড়ার পাশ দিয়ে কালের বিবর্তনে নদী ভরাট হয়ে সোনাগাজী ডাঙ্গি খালটি প্রবাহমান রয়েছে। খাল দিয়েই তাদের নৌকাগুলো তীরে ভিড়ে। সরকারি খাস জমিতে তারা কোনো রকমে ঝুপড়ি দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছে। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য বাড়তে থাকায় ও নদী ভাঙনের ফলে তারা সড়কের পাশেই ঘর করে বসবাস করছেন।
বর্তমানে চরখোন্দকার গ্রামের নুর আহম্মদ নামে এক ভূমি দস্যু খালে বাঁধ দিয়ে এবং জেলে পাড়া সংলগ্ন স্থানে অ্যাস্কেভেটর দিয়ে মাটি খনন করে মৎস্য ঘের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এতে অসহায় জেলেরা ওই এলাকায় আন্দোলন শুরু করেন। বিষয়টি পরিবেশমন্ত্রীর নজরে এলে জেলেদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ঘটনাস্থলে যুবদল নেতাদের পাঠান। মন্ত্রীর নির্দেশে যুবদল নেতারা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে জবরদখলকারী নুর আহমদের বিরুদ্ধে মন্ত্রীর অবস্থানের কথা জানান। এতে জেলে সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষরা স্বস্তি প্রকাশ করেন।
রাঁধেশ্বাম জলদাস, কানন বালা, ভারতী বালা, জগদ্বিশ, মন ও সুমন জলদাস বলেন, আমরা নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাই। আমাদের উপর কেন এমন অন্যায় করছে বুঝতেছিনা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিগ্যান চাকমা বলেন, জেলেরা ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে নদীর তীরে খাস জমিতে বসতি গড়ে বসবাস করছেন। অন্যদিকে নুর আহমদ নিজের নামে রেকর্ড করে প্রবাহমান খাল জবরদখলের অভিযোগ পেয়েছি। নুর আহমদ কে খাল দখল ও জেলেদের উচ্ছেদের অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছি।
উচ্ছেদের বিষয়ে নুর আহাম্মদ অস্বীকার করে বলেন, জায়গা গুলো আমার নামে রেকর্ড করা। আমি জমি গুলো আমি বেদখল হওয়া থেকে রক্ষা করতে সংস্কার করতেছি। বরং তারা এই কাজে বাঁধা দিচ্ছে। পাশাপাশি তারা বর্তমানে যেখানে আছে সেখানে আমি কোনো হস্তক্ষেপ করিনি।