কুমিল্লায় জমে উঠেছে ঈদবাজার শপিং মলে উপচেপড়া ভিড়
নেকবর হোসেন কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় জমে উঠেছে ঈদের বাজার। শপিং মলগুলোতে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের গুলোতে উপচেপড়া ভিড়। সকাল ১০টা থেকে শুরু করে রাত ১২টা পর্যন্ত গ্রাহকদের পদচারণায় মুখরিত থাকে বিপণিবিতানগুলো। থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট ও জামদানিসহ ছোটদের নানা বাহারি রঙের পোশাকে সুসজ্জিত এসব দোকান। ক্রেতাদের হাতে চাহিদামতো পোশাক তুলে দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকানিরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লার বিখ্যাত শপিং মল ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজা, সাত্তার খান টাওয়ার, খন্দকার হক টাওয়ার, এস আর প্ল্যানেট, সাইবা ট্রেড সেন্টার, আনন্দ সিটিসহ সব নামি-দামি ব্র্যান্ডের শোরুমগুলাতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা।

বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী, পরিবার ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ সকাল থেকেই কেনাকাটায় ব্যয়। ক্রেতাদের মধ্যে নতুন পোশাক, ফ্যাশনেবল এক্সেসরিজ এবং ঈদের উপহার সামগ্রীর প্রতি আগ্রহ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
বেচাকেনার ধুমে দোকানিরা নতুন অফার ও ছাড়ের মাধ্যমে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। এমনকি দোকানিরা তাদের সেবা আরো দ্রুত এবং বন্ধুত্বপূর্ণ করার চেষ্টা করছেন, যাতে ক্রেতারা সহজে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারেন।
ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজায় দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে র্যাফেল ড্র। যেখানে আছে পাঁচটি মোটরবাইকসহ আরো দামি শতাধিক পুরস্কার। প্রতিটি পণ্য কিনলেই একটা করে কুপন উপহার দিয়ে থাকে দোকানিরা। এছাড়াও এস আর প্ল্যানেট এবার চালু করেছে আকর্ষণীয় পুরস্কারের। সেখানেও রয়েছে বাইকসহ আরো নামি-দামি পুরস্কার। রমজানের শুরু থেকেই কুমিল্লার শপিংমলগুলোতে যেন ঈদ উদযাপনের আনন্দ ও কৌতূহলের সঙ্গে মুখরিত।
পরিবারসহ শপিং করতে আসা মোশেদা আক্তার জানান, ঈদ সামনে থাকায় আমরা শপিংমলে নতুন পোশাক ও উপহার সামগ্রী কিনতে এসেছি। আমি প্রতি ঈদেই খন্দকার হক টাওয়ারের থেকেই শপিং করি। আমাদের বাচ্চারাও এখানে আনন্দের সঙ্গে আসে, তারা প্রতিবারই টোকেন সংগ্রহ করে বক্সে রাখে। শপিংমলের পুরস্কারের আয়োজনটি সত্যিই প্রশংসনীয়।
এবারের ঈদে ক্রেতাদের চাহিদা পাকিয়ানি ড্রেসের দিকে। যার মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানি ফারসি ড্রেস। তিন হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকার ড্রেস ও রয়েছে দোকানগুলাতে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী সাজানো হয়েছে এসব পোশাক।
ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজার রেড টেক দোকানের মালিক মাহবুব আলম বলেন, ঈদের বাজার দিন দিন জমে উঠেছে, আমাদের বেচাকেনাও বাড়ছে। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ইন্ডিয়ার বিভিন্ন শহর থেকে ঘুরে ঘুরে পোশাক এনেছি। পাকিয়ানি
ড্রেসের ওপর বেশি আগ্রহ থাকায় দোকানে প্রচুর পাকিয়ানি ড্রেস রেখেছি। ক্রেতারা আসছে, পছন্দের পোশাক পেয়ে খুশিতে কিনে নিচ্ছে।
কুমিল্লা দোকান মালিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং খন্দকার হক টাওয়ারের স্বত্বাধিকারী জামাল খন্দকার জানান, ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে বেচাকেনা ততই বাড়ছে। গতবারের ঈদ থেকে এবারের বেচাকেনা বেশি হবে।
ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজার দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মঞ্জুরুল আলম ভুইয়া বলেন, সকাল ১০টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ক্রেতাদের সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য আমরা অতিরিক্ত কর্মী ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছি। উৎসবের আমেজ বজায় রেখে সবাই যেন আরামদায়কভাবে কেনাকাটা করতে পারে, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে লটারির ব্যবস্থা করেছি। সেখানে মোটর বাইক থেকে শুর করে আকর্ষণীয় শতাধিক পুরস্কারের ব্যবস্থা রেখেছি।
কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, নগরীর সব শপিংমলে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গেও আমাদের বৈঠক হয়েছে। চুরি, ছিনতাই রোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও ডিবি।