ফেনীতে বিএনপির তিন হেভিওয়েট নারী নেত্রী সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী

জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেতে ফেনী বিএনপির ৩ জন নেত্রী ও তাঁদের সমর্থকেরা তৎপরতা শুরু করেছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখছেন। অন্যদিকে তাঁদের কর্মী, সমর্থকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারণা চালাচ্ছেন।মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচিত নারী নেত্রীদের মধ্যে আছেন সাবেক এমপি রেহানা আক্তার রানু, অ্যাড. শাহানা আক্তার শানু ও অধ্যাপিকা নাজমা সুলতানা ঝংকার। রেহানা আক্তার রানু বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক। তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদের মহিলা আসন ২১ ও নবম জাতীয় সংসদের মহিলা আসন ৪০ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত সংসদ সদস্য ছিলেন।

নবম সংসদে তিনি কার্যবিধির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৭০ সালে ফেনী সদর উপজেলার কাজীরবাগ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় বসবাস করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ফেনী-২ সাধারণ আসনেও মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এবারও তিনি সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে জোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন বিগত আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকে সকল রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করেছেন।

আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাহানা আক্তার সানু। তিনি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ছড়াইতকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে ঢাকায় থাকেন। অ্যাডভোকেট সাহানা আক্তার সানু জানান, তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৮৭ সালে সোনাগাজী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নির্বাচিত ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে।

পরে ১৯৯১ সালে ঢাকার বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক এবং কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং দুই দফা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ওই পদে বহাল রয়েছেন।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতির কারণে তাকে ও তার পরিবারকে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ফেনীর আলোচিত সাবেক নেতা জয়নাল হাজারীর অনুসারীদের হাতে তার পিতা ও ভাইদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া ২০১৪ সালে ঢাকায় তার বাসভবনে একাধিকবার হামলার ঘটনাও ঘটে। আইনজীবী পেশায় যুক্ত থাকলেও এখনো তিনি বহু গায়েবি মামলার আসামি হিসেবে আদালতে ঘুরতে হয়েছে।

তিনি বলেন, এবারও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ সাধারণ আসনে মনোনয়ন ছিলাম। দলের নির্দেশে মনোনয়নপত্র জমা না দিয়ে মনোনীত প্রার্থী পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর পক্ষে কাজ করেছেন এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ফেনীর অন্য দুই আসনেও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন। দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিচার চলাকালে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ও পরে আদালতে মামলার শুনানিতে তিনি নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন এবং দলীয় আইনজীবীদের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। তার এসব ত্যাগের মূল্যায়ন করে দল তাকে যথাযথভাবে বিবেচনা করবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক ভিপি অধ্যাপিকা নাজমা সুলতানা ঝংকার। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

সংগঠনের প্রতি আনুগত্য ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। ১৯৯৬ সালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র-সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মনোনীত প্যানেল থেকে বিপুল ভোটে ভিপি নির্বাচিত হয়ে তিনি ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্বের সক্ষমতা প্রমাণ করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি শিক্ষার প্রসার, বিশেষ করে নারীদের শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

সামাজিক কর্মকাণ্ড, যুব উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং দরিদ্র মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমপৃক্ত রয়েছেন।এছাড়া রাজনৈতিক জীবনে তিনি ও তাঁর পরিবার বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, মিথ্যা মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েও দল ও আদর্শের প্রতি অবিচল থেকেছেন।

তাই সংরক্ষিত মহিলা আসনে দলীয় মনোনয়ন পেলে তিনি সংসদে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। তিনি সোনাগাজী পৌর শহরের কলেজ রোডস্থ নিকুঞ্জ ভিলায় জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা সোনাগাজী মোহাম্মদ ছাবের মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান মৌলভী ছিলেন। বর্তমান তিনি ঢাকায় বসবাস করছেন।

তিনি বলেন, শিক্ষতার সাথে জড়িত থাকার সুবাধে তাদের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেছেন। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে শক্তি ও সাহস যুগিয়েছেন। তাই তিনি দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

আরো দেখুনঃ