সোনাগাজীতে যুবদলের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ৮
জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীতে তুচ্ছ ঘটনায় যুবদলের দু’গ্রুপের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষে কমপক্ষে আটজন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ও রাতে আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুরে পৃথক এ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন আলা উদ্দিন, শেখ ফরিদ, রাহাতুল ইসলাম বিজয়, সাখাওয়াত হোসেন, আব্দুস শুক্কুর, সৈকত, করিম ও সৌরভ।
পুলিশ ও দলীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে সোনাপুর হাজী শামসুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনির দু’শিক্ষার্থী জাফর ও সুমনের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনায় হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার জেরে
বিকাল তিনটার দিকে হাজী রহিম উল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদঢালয়ের সামনে জাফরের স্বজনরা মিলে সুমনের আত্মীয় রিকশা চালক যুবদলকর্মী আলা উদ্দিনকে বেধড়ক পিটুনি দিয়ে দুটি পা ভেঙে দেন। তার আত্মচিৎকারে তার স্বজনেরা এগিয়ে এলে তাদেরকেও মাথা ফাটিয়ে দেন। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে বিকাল সাড়ে চারটার দিকে স্থানীয় যুবদল নেতা এনামুল হক শাহীনের অনুসারিরা একত্রিত হয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতা সোহাগ নূরের অনুসারি রাহাতুল ইসলাম বিজঢকে কুপিয়ে জখম করে।
তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দু’পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়। এক পর্য়ায়ে সোহাগের অনুসারী যুবদল কর্মী শেখ ফরিদের মাথা ফাটিয়ে দেন শাহীনের অনুসারীরা। চতুর্থ দফায় রাত নয়টার দিকে শাহীন গ্রুপ ও সোহাগ গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিলে দু’পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে তুমুল ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
খবরর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। আহতদের মধ্যে আলা উদ্দিনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকীদেরকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সোনাগাজী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব বর্তমান যুবদল নেতা সোহাগ নুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দু’জন শিশু শিক্ষার্থীর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় কিশোর গ্যাং এবং পরবর্তীতে দলীয় গ্রুপিংয়ে জড়িয়েছে। যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত শাস্তি হোক।
স্থানীয় যুবদল নেতা এনামুল হক শাহীন বলেন তুচ্ছ ঘটনায় নিরিহ লোকদের ওপর হামলা করা হয়েছে। যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তি চাই।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় দু’পক্ষের মধ্যে পৃথক হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।