বাগমারায় এনজিও’র সাইন বোর্ড ঝুঁলিয়ে দিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে স্থাপনা নির্মাণ
বাগমারা, রাজশাহী প্রতিনিধি।।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাগমারার ভবানীগঞ্জ পৌরসভা হিন্দুপাড়ায় কেন্দ্রীয় মন্দির সংলগ্ন বসতবাড়ির জমি দখল করে এনজিও’র সাইন বোর্ড ঝুঁলিয়ে স্থাপনা নির্মানের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মহল্লার বাসিন্দা নরেন চন্দ্র দাস ও দিলিপ কুমার দাসের মধ্যে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে হিন্দুপাড়া এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সরজমিনে ঘটনাস্থরে গিয়ে জানা গেছে, ভবানীগঞ্জ পৌরসভার হিন্দুপাড়ায় কেন্দ্রীয় মন্দির সংলগ্ন ভবানীগঞ্জ মৌজায় ১৪১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৫৬১ নম্বর দাগে এক শতক বসতবাড়ির জমির দখল নিয়ে নরেন চন্দ্র দাসের সঙ্গে প্রতিবেশি দিলিপ কুমার দাসের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই ওই জমি ক্রয় সূত্রে দলিল মুলে মালিকানা হিসাবে দাবি করেন।
এ সময় নরেন চন্দ্র দাস জানান, তার ভোগদখলীয় জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো। এই ঘটনায় তিনি গত ২৬ ফেব্রæয়ারী চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং ২৩/২০২৬ অ: প্রা: চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ওই জমিতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাগমারা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। নরেন চন্দ্র অভিযোগ করেন আদালতের ওই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিলিপ কুমারের নেতৃত্বে উজ্জল কুমার, বিজন কুমার, সূর্য্য কান্ত হালদার, সূর্য্যধর হালদার, সাধণ কুমার, সাগর কুমারসহ প্রায় ১৪-১৫ জন ভাড়াটিয়া লোকজন গত ২৯ এপ্রিল দুপুরে হাতে লাঠি, কাঠের বাটাম, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বসতবাড়ির ওই জমিতে অনাধিকার প্রবেশ করে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা ওই জমিতে থাকা তার বসতবাড়ির টিনের বেড়া ভেঙ্গে দেয় এবং একটি আম গাছ গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতীর ২০-১৫ টি গাছ কেটে ফেলে। এরপর ওই জমির চারদিকে টিন দিয়ে ঘিরে রেখে ভরশার আলো নামে একটি এনজিও’র সাইন বোর্ড ঝুঁলিয়ে দিয়ে দিলিপ কুমার স্থাপনা নির্মানের কাজ শুরু করেন। এতে বাঁধা দিতে গেলে নরেন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। এই ঘটনায় পরের দিন নরেন চন্দ্র দাস বাদি হয়ে দিলিপ কুমারসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে থানা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অপরদিকে দিলিপ কুমার অভিযোগ করেন, শ্রীমতি শক্তিরানী হলদাররের নিকট থেকে ১২/০৬/২০২৪ ইং তারিখে ৩৩১৮ নং দলিল মূলে ০.০৪ একরের কাত ০.০১৩৩ একর জমির তিনি বৈধ মালিক। অথচ নরেন চন্দ্র দাস দীর্ঘ দিন ধরে তার বৈধ মালিকানাধীন জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিল। গত বছরের ২৯ আগস্ট ওই জমিতে প্রবেশে করতে গেলে নরেন চন্দ্র দাস তার বাহিনীর লোকজন দ্বারা তাকে (দিলিপ কুমারকে) প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এই ঘটনায় ২ সেপ্টেম্বর দিলিপ কুমার বাদি হয়ে নরেন চন্দ্র দাসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডি করেন। দিলিপ কুমার আরো জানান, আদালতে নরেন চন্দ্র দাসের একটি মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভুঞা সরজমিনে তদন্ত করে বিরোধপূর্ণ ওই জমির দলিল মূলে আমি বৈধ মালিক হিসাবে প্রতিবেদন দিয়েছেন। এরপর তিনি ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করলে নরেন চন্দ্র দাস বাঁধা দেওয়া বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন- আদালতের নির্দেশে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে কেউ প্রবেশ করতে পারে না মর্মে উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে অবহিত করা হয়েছে। অথচ অদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে এক পক্ষ স্থাপনা নির্মান কাজ শুরু করায় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে এলাকায় পুলিশী টহল জোরদার করা হয়েছে।