সোনাগাজীতে দিন মজুরকে অপহরণ করে নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় ও ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি
জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীতে কামরুল ইসলাম একরাম (৩৫ নামে দিন মজুরকে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় ও ৭০ হাজার টাকা চাঁদা দাবিরর অভিযোগ উঠেছে। চারদিন ধরে অনাহারে দিন কাটাচ্ছ অসহায় দিনমজুর একরাম ও তার পরিবারের সদস্যরা। উপজেলার সাতবাড়িয়া এলাকায় ২০ জুন রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত দিন মজুর একরাম জানায়, গত ২০ জুন রাত দশটার দিকে ফেনীতে দিনমজুরের কাজ করে (রাজমিস্ত্রীর সহকারি হিসেবে) বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা মোটর সাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে মেহেদী, ফরহাদ ও অন্তরের নেতৃত্বে ৭-৬জন সন্ত্রাসী তাকে পুলিশ পরিচয়ে জোরপূর্বক সিএনজি অটোরিকশায় তুলে সাতবাড়িয়া এলাকার নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
সেখানে নিয়ে তাকে পাইপ দিয়ে পিটিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের আঙ্গুল কেটে নির্মম নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা বোরহান উদ্দিন মদ,গাজা ব্যবসা করে মর্মে স্বীকারোক্তি আদায় করে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে ৭০হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।
দাবিকৃত চাঁদা নিতে সোনাগাজী পৌর শহরের জিরোপয়েন্টে একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে রেখে সন্ত্রাসীরা ওই যুবকের ভাইকে খুঁজতে নীচে নামলে সে ওই ভবন থেকে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন। উল্লেখিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা মেহেরাজ নামে আরেক যুবককেও একই কায়দায় নির্মম নির্যাতন চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উল্লেখিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা পুলিশ পরিচয়ে একই কায়দায় বিভিন্ন লোকজনকে ধরে ভিডিও ধারণ করে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ আদায় করছো। সন্তাসীদের এসব অপকর্মে জনমনে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নির্যাতিত একরাম পূর্বসুজাপুর গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে। তার এক কন্যাকে বিয়ে দিয়েছেন।
নির্যাতনের কারণে কাজে যেতে না পারায় স্ত্রী, দুই সন্তান নিয়ে একরাম গত চার দিন ধরে অনাহারে দিন পার করছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।