গাইবান্ধায় রামমূর্তি নির্মাণ বন্ধের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন ও সমাবেশ
শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি।

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে প্রস্তাবিত ৮২ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণ বন্ধের দাবিতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে “ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র শ্রমিক জনতা, কুড়িগ্রাম”।
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কঠোর হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসনের কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তারা অভিযোগ করেন, গাইবান্ধায় বিশাল রামমূর্তি নির্মাণের মাধ্যমে বাংলাদেশেও সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানান তারা।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে সংগঠনটির সমন্বয়ক আখম আশরাফুর রহমানসহ শাহিনুর রহমান, মনজুরুল হক, আহমেদ তালুকদার ও রাসেল মিয়া বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮২ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক। তারা এ কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, প্রস্তাবিত মূর্তি নির্মাণের কার্যক্রম বন্ধ করে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তারা সরকারের কাছে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
বক্তারা অভিযোগ করেন, মূর্তি নির্মাণের উদ্যোগের পেছনে থাকা হরিদাস চন্দ্র তরণীদাস একজন চিহ্নিত প্রতারক। তাদের দাবি, তিনি অতীতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছিলেন এবং পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তার হন।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, জেল থেকে বের হওয়ার পর তিনি বিপুল ব্যয়ে রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ বিষয়ে অর্থের উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কর্মসূচি শেষ করে।