বাগমারায় দখলদার উচ্ছেদ ছাড়াই পাকা সড়কের প্রস্তাব

আবু বাককার সুজন, বিশেষ প্রতিবেদক:

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের মাঝিগ্রামে সরকারি রাস্তার জমি দখলমুক্ত না করেই হেরিংবোন (ইটের) সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গ্রামের বাসিন্দা মানজাক, আব্দুল কুদ্দুস, আল-আমিনসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ, অনুমোদিত নকশা, অ্যালাইনমেন্ট ও মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী সড়কটি সোজা হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকটি পরিবারের দখলের কারণে সেটি আঁকাবাঁকা পথে নির্মাণ করা হয়েছে।

বর্তমানে একই পথে পাকা সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দখলদারদের উচ্ছেদ না করে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হলে সরকারি রাস্তা স্থায়ীভাবে বাঁকা হয়ে যাবে। এতে ভবিষ্যতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়বে।

তাদের ভাষ্য, সরকারি রাস্তার জমি দখল করে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক জোবায়েদ হোসেন। এছাড়া বজলুল ও রেজাউল নামে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধেও সরকারি জমি দখলের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

তাদের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে, হেরিংবোন সড়ক হওয়ার সময় এই দুই ভাইয়ের বাড়ির বাইরের উঠানের পাশ দিয়ে সরকারি জমিতে রাস্তা থাকলেও তারা বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করে সামষ্টিক এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে গিয়ে তৎকালীন রাস্তার কন্ট্রাক্টরকে রাস্তা বাঁকা করতে বাধ্য করে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালে জোবায়েদ হোসেনের বাড়ির সামনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি এবং “জোবায়েদ হোসেন, সভাপতি, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বাগমারা উপজেলা শাখা” লেখা একটি সাইনবোর্ড টানানো ছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সে সময় একাধিক অভিযোগ, মানববন্ধন ও প্রশাসনিক উদ্যোগের পরও উভয় দখলদারদের দখল অপসারণ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিকল্প হিসেবে বাঁকা পথেই হেরিংবোন সড়ক নির্মাণ করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে প্রথম বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পরে ২০২০ সালের ২৯ শে জুন এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং পুনরায় ইউএনও বরাবর আবেদন করেন।

বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান সরেজমিন পরিদর্শন ও মাপজোখ শেষে দখলদারদের ২১ দিনের মধ্যে সরকারি জমি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

তবে সেই নির্দেশ আজও বাস্তবায়ন হয়নি। পরবর্তীতে ২০২১ সালে এলাকাবাসী তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছেও আবেদন করেন। সর্বশেষ গত ২৯ জুন এলাকাবাসী রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন।

আবেদনে মৌজা ম্যাপ ও অ্যালাইনমেন্ট অনুযায়ী সরকারি রাস্তার সীমানা যাচাই, দখলমুক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। মাঝিগ্রামের বাসিন্দাদের একটাই প্রত্যাশা- সরকারি জমি দখলমুক্ত করে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী সোজা পাকা সড়ক নির্মাণ করা হোক।

এদিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ।

আরো দেখুনঃ