সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাগমারার শ্যামলের লাশ দেশে ফিরল ১৯ দিন পর স্বজনদের আহাজারি, দাফন সম্পন্ন
আবু বাককার সুজন, বিশেষ প্রতিবেদক

সৌদিআরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত রাজশাহীর বাগমারার ঝিকড়া ইউনিয়নের মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের প্রবাসী শ্যামল উদ্দিন মাঝির (৪৬) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় নিজ বাসভবনে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়। জানাজায় বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহমেদ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম, ঝিকরা ইউপির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম এবং ঝিকরা ইউনিয়ন বিএনপি’র আহ্বায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান রতন সহ এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
রাত ৩ টার দিকে শ্যামল উদ্দিন মাঝির কফিনবন্দী মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। দীর্ঘদিন পর প্রিয় মানুষটি দেশে ফিরবেন, এমন অপেক্ষায় ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু জীবিত শ্যামলের পরিবর্তে কফিনবন্দী মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনরা। শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন প্রতিবেশীরাও। শ্যামলের মরদেহ একনজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় প্রায় আট বছর আগে সৌদিআরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন শ্যামল উদ্দিন মাঝি। তিনি রিয়াদের মানফুয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় কর্মরত ছিলেন। গত ৯ আগস্ট রাতে ওই কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শ্যামল উদ্দিন মাঝিও।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘ আট বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে শ্যামল দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে শেষ কথোপকথনেও তিনি শিগগিরই বাড়ি ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। স্বজনরাও তাঁর ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো মর্মান্তিকভাবে। জীবিত মানুষ হিসেবে নয়, কফিনবন্দী হয়ে দেশে ফিরলেন শ্যামল। শ্যামল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর তিন কন্যাসন্তান রয়েছে।
বাবার দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা সন্তানদের কাছে শেষ পর্যন্ত ফিরেছে বাবার নিথর মরদেহ। এ দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। স্ত্রীর আহাজারি আর তিন কন্যাসন্তানের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। স্থানীয়দের মধ্যেও নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।