আইনের পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা ও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা

স্টাফ রিপোর্টার

মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়ানো এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বক্তারা। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে মাদকবিরোধী আলোচনা সভা, গুণীজন সম্মাননা ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় তাঁরা এ কথা বলেন।

‘শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চাই আমাদের লক্ষ্য’ এবং ‘সংস্কৃতি একটি জাতির অতীত ও ভবিষ্যতের কথা বলে’—এই স্লোগান সামনে রেখে সোনার বাংলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে ‘মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচা কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য গুণীজনদের সম্মাননা দেওয়া হয়। পরে সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানটি সংগঠনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিন্স সোহাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কল্পনা মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জুয়েল হালদার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচারপতি মীর হাসমত আলী। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি পরিবারে সচেতনতা তৈরি, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের সাবেক যুগ্ম বার্তা সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল বারী এবং সারা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক (মার্কেটিং) শেখ মো. শাহ কামাল (শ্যামল)।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সমাজ, সংস্কৃতি, শিক্ষা, সাংবাদিকতা, ব্যবসা ও মানবসেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১০ জন গুণীজনকে ‘সোনার বাংলা সম্মাননা-২০২৬’ দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি তাঁদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।

সম্মাননাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি তাঁদের ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করবে।

পরে সংগঠনের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। গান, আবৃত্তি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

আরো দেখুনঃ