রডের বদলে বাঁশ দিয়ে সেতুর ফুটপাতের ঢালাই, কার্যসহকারী বরখাস্ত

স্টাফ রিপোর্টার

টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্লাব ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার পর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কার্যসহকারী হাসমত আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তার বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, সেতুর নির্মাণকাজে নির্ধারিত মানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ কারণে দুর্নীতির অভিযোগে প্রচলিত চাকরিবিধি অনুযায়ী হাসমত আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে সাময়িক বরখাস্তের সময় বিধি অনুযায়ী তিনি খোরাকি ভাতা পাবেন।

এলজিইডি সূত্র জানায়, গ্রামীণ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। ৯০ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা। যৌথভাবে কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুছ আল মামুন’ ও ‘মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ’।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ পরবর্তীতে বাড়ানো হয়। সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

সম্প্রতি সেতুটির ফুটপাতের স্লাব ঢালাইয়ের সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে। বিষয়টি দেখে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী গত রোববার রাতে নির্মাণকাজে বাধা দেন। একই সঙ্গে ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সেতুর নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রী নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণাধীন সেতুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এর পরই সংশ্লিষ্ট কার্যসহকারী হাসমত আলীর বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আরো দেখুনঃ