সরকারি চাকরিজীবীদের পদায়ন নিয়ে বিতর্ক, ফুলবাড়ী বিএনপির কমিটি ঘিরে ক্ষোভ ফেসবুকে সমালোচনার ঝড়

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

সরকারি চাকরিবিধি ও দলীয় গঠনতন্ত্রের বিষয়টি উপেক্ষা করে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই বছর পর ঘোষিত ২০ সদস্যের এ কমিটিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কলেজের শিক্ষক ও ব্যাংক কর্মকর্তার নাম থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কমিটি ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। একই সঙ্গে পদবঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান ও সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদের যৌথ স্বাক্ষরে ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির ২০ সদস্যের নতুন আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

ঘোষিত কমিটিতে উপজেলার রোশন শিমুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুজ্জামান হাসুকে আহ্বায়ক এবং পূর্ব কুরুষা ফিরুষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান মুকুলকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

এ ছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন কবির মামুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল হোসেন, যতীন্দ্র নারায়ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, সরকারি সাইফুর রহমান কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক ও সাংবাদিক শাহীনুর রহমান এবং অগ্রণী ব্যাংকের ফুলবাড়ী শাখার সিনিয়র কর্মকর্তা তহিদুল হক।কমিটি ঘিরে তৃণমূলে অসন্তোষ

স্থানীয় বিএনপির একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে সরকারি চাকরিজীবী ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

কমিটি ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা মন্তব্য ও সমালোচনা দেখা যায়। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া, পদবণ্টন এবং সরকারি চাকরিজীবীদের রাজনৈতিক দলের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

তবে কমিটিতে স্থান পাওয়া ব্যক্তিদের সরকারি চাকরির বিধিবিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই ও বক্তব্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একইভাবে কমিটি গঠনে দলীয় গঠনতন্ত্রের কোনো বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা-ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে নতুন কমিটির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান হাসুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তী সময়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একইভাবে কমিটির সদস্যসচিব আব্দুল মান্নান মুকুলের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

ফলে কমিটি গঠন নিয়ে ওঠা অভিযোগ, সরকারি চাকরিবিধি সম্পর্কে তাঁদের অবস্থান এবং সমালোচনার বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও বাড়ছে। কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে দলের দায়িত্বশীল নেতাদের স্পষ্ট কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

আরো দেখুনঃ