নবীনগরে আইইএসের জাতীয় মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল ৩০৮ শিক্ষার্থী
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে ইসলামিক এডুকেশন সোসাইটির (আইইএস) উদ্যোগে জাতীয় মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) উৎসবমুখর পরিবেশে উপজেলার নারায়ণপুর ডিএস কামিল মাদরাসা কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলা এ পরীক্ষায় উপজেলার ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩০৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
পরীক্ষায় তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল ৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪টি কিন্ডারগার্টেন ও ১টি মাদরাসা।
পরীক্ষা আয়োজন কমিটির সদস্য আব্দুল কাইয়ুম জানান, বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ধর্ম বা আরবি এবং সাধারণ জ্ঞান—এই পাঁচটি বিষয়ে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষায় কৃতকার্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ট্যালেন্টপুল গ্রেডে ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং সাধারণ গ্রেডে ১ হাজার টাকা করে বৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান করা হবে।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আলীয়াবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা জাহান আনন্দ প্রকাশ করে বলে, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এমন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরে সে ভীষণ আনন্দিত। তার পরীক্ষাও অনেক ভালো হয়েছে।
এক অভিভাবক শহিদুল হক বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রেরণা জোগাবে। পাশাপাশি তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি হবে।
নারায়ণপুর ডিএস কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মুফতি রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আসন্ন প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতেও এটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
আইডিয়াল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের চেয়ারম্যান মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, এ ধরনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে এক ধাপ এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
আলীয়াবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম সবুজ বলেন, পরীক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজনের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি বাড়তি আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ করা গেছে।
কাইতলা যজ্ঞেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত করবে।