বড় ভাইয়ের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি নূরে আজাদ ইমরান

স্টাফ রিপোর্টার

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি নূরে আজাদ ইমরানের বড় ভাই নাজমুল আহসানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দেওয়া তাঁর বিভিন্ন পোস্টের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতির পরিবারের সদস্যের এমন রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ক্রিনশট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট নাজমুল আহসানের ফেসবুক আইডি থেকে লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি নিয়ে একটি পোস্ট করা হয়। একই দিনে দেওয়া আরেকটি পোস্টে তাঁকে লিখতে দেখা যায়, এই মৃত্যুর দায়ভার আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে। তিনি ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণ করে আরো পোস্ট করেন পালাইছে কে পালাইছে? হাসিনা পালাইছে। চুরের মতো কে পালাইছে হাসিনা পালাইছে। বাংলার জনগণ আপনাদের ছাড়বে না।

এ ছাড়া ওই সময়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে তাঁর বিভিন্ন মন্তব্যের স্ক্রিনশটও সামনে এসেছে। এসব পোস্টের ভাষা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

নাজমুল আহসানের এসব পোস্ট সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর ছোট ভাই নূরে আজাদ ইমরান কীভাবে ইসলামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের সাংগঠনিক অবস্থান, নেতৃত্ব নির্বাচন এবং রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্ন তুলছেন।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় পরিবারের একজন সদস্যের প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান এবং অন্যদিকে তাঁর ছোট ভাইয়ের ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতির দায়িত্বে থাকা এই দুই বিষয়কে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের প্রেক্ষাপট

১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দীর্ঘদিন দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রসংগঠন হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, নির্যাতন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘাতসহ নানা অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা ও সহিংসতার অভিযোগ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ১৮(১) ধারায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১২ মে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়।

এ অবস্থায় ইসলামপুর উপজেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি হিসেবে নূরে আজাদ ইমরানের সাংগঠনিক পরিচয় ও কার্যক্রম নিয়েও স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এসব প্রশ্নের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্ব ও কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থানও জানতে চান স্থানীয় সচেতন মহল।

এ বিষয়ে নূরে আজাদ ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হারুন রশিদ বলেন, বিষয়গুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে দেখেছি। যেহেতু সে ছাত্রলীগ করে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জেলা ছাত্রলীগ নেবে। তবে সে যদি যুবলীগে অংশগ্রহণ করতে চায়, সে বিষয়ে আমরা দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামালপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি খাবির বাবু বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে পরে জানাব।

আরো দেখুনঃ