১১ দিনেও খুলল না জবির ‌‌‌‘বাঁধন’

অনলাইন ডেক্স।।

6
অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা বাঁধনের কার্যক্রম স্থগিত হওয়ার ১১ দিন পার হলেও নতুন করে কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি সংগঠনটি। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী সংগঠন বাঁধনের কেন্দ্রীয় সভাপতির এক নির্দেশে জবি শাখার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। ওই নির্দেশে বর্তমান ও সদ্য বিদায়ী কমিটির কার্যক্রম এক সপ্তাহ স্থগিত রাখার কথা থাকলেও ১১ দিনেও কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, জবি শাখা বাঁধন দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে কাজ করলেও এ ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি। জবি শাখা বাঁধন ২০২০ কমিটির কার্যক্রম শুরুর পরই পদবঞ্চিত একটি পক্ষ নতুন কমিটি ও সংগঠনটির উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি, স্বজনপ্রীতি, দক্ষ কর্মীদের মূল্যায়ন না করা এবং উপদেষ্টারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। বিশেষ করে ছাত্র উপদেষ্টা মকবুল হাসান সোহান, আমিনুল হক রবিন ও আক্তারুজ্জামান আতিকের বিরুদ্ধে সরাসরি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে পদবঞ্চিত পক্ষটি।
২০২০ কমিটি গঠনে স্বজনপ্রীতি, দক্ষ কর্মীদের মূল্যায়ন না করা ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ নানা অভিযোগে সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন পদবঞ্চিত পক্ষটি। একই সঙ্গে বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকেও অবহিত করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ হলে জবি শাখা বাঁধনের সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে সেই কমিটির কাজের কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি। আবার শিক্ষক উপদেষ্টারা বারবার উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেও কোনো সমাধান করতে পারেননি।
এরই প্রেক্ষিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি সদ্য বিদায়ী কমিটির সভাপতি নিয়াজ শরীফ টুটুলের নেতৃত্বে সভা করে বর্তমান কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারাই বাঁধন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়ে অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ১৯ ফেব্রুয়ারি বাঁধন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হুসাইন মোহাম্মদ সিদ্দিকিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমান ও সদ্য বিদায়ী কমিটির উভয় পক্ষের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণে বাঁধন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো। পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আগামী সাত দিনের মধ্যে বাঁধনের জবি শাখার সকল আর্থিক ও দাফতরিক হিসেব কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করতে হবে এবং সে অনুযয়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু স্থগিতাদেশে উল্লেখিত ৭ দিন গত বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শেষ হলেও নতুন করে কার্যক্রম শুরুর এখনো কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
এবিষয়ে বাঁধনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হুসাইন মোহাম্মদ সিদ্দিকিন বলেন, আমরা জবি ইউনিটের সব নথিপত্র জমা নিয়েছি। এগুলো এখন যাচাই-বাছাই চলছে। স্থাগিতাদেশের ৭ দিন শেষ হওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, আসলে বিষয়টি শুধু কেন্দ্রীয় কমিটির ওপর নির্ভরশীল নয় এর সঙ্গে ওই ইউনিটের সাবেক ও বর্তমান সবাই জড়িত। তবে আমরা ওই ইউনিটের সবার সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি আগামী এক মাসের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে।
আরো পড়ুনঃ