ডেকে নিয়ে ২ নেতাকে মারধর করলেন কুবি ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদক

অনলাইন ডেস্ক।।

10
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) জিমনেশিয়ামে দুই ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।রোববার রাত ৯টার দিকে ডেকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেশিয়ামে কুবি শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদের উপস্থিতিতে তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগে জানা যায়।
মারধরের শিকার দুই নেতা হলেন- লোক প্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রলীগের গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মোবারক হোসাইন মাহী এবং একই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিন শুভ।
এদিকে মারধরের পর ভুক্তভোগীদের বিচার করতে উল্টো তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শাখা ছাত্রলীগ।
জানা যায়, রোববার সন্ধ্যার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই এলাহীর ফোন পেয়ে তার ভাইকে দেখতে বরুড়ায় তার বাড়িতে যান মমিন। এ সময় মাহীসহ ৫-৬ নেতাকর্মী সেখানে যান। গিয়ে দেখেন রেজার ভাইয়ের সঙ্গে এলাকায় একটি ঝামেলা চলছিল। তবে ঝামেলার কথা শুনে চলে আসেন তারা।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাত ৯টার দিকে এ দুই নেতাকে জিমনেশিয়ামে ডাকেন শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদসহ অন্য নেতারা।
সেখানে গেলে সভাপতি ও সম্পাদকের সামনেই এ দুই নেতাকে এলোপাতাড়ি চড়, লাথি-ঘুষি দিতে থাকেন নজরুল হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক আশিক আবদুল্লাহ, সহসভাপতি নাজমুল হাসান পলাশ, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল আলম দীপ্ত, যুগ্ম সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ, ছাত্রলীগ নেতা মাসুম, ফিন্যান্স বিভাগের সালমান চৌধুরী, দত্ত হল ছাত্রলীগকর্মী ও অর্থনীতি বিভাগের সিফাতসহ হল শাখার অন্তত ১০-১৫ নেতাকর্মী।
যাদের অনেকেই মারধরের শিকার শিক্ষার্থীদের জুনিয়র ছিলেন। এ সময় জিমনেশিয়ামের যন্ত্র দিয়েও তাদের শরীরে আঘাত করা হয়। এদিকে মারধরের পর এ দুই নেতাকে হল থেকে বের করে দেয় ছাত্রলীগ।
মারধরের শিকার ছাত্রলীগ নেতা মাহী বলেন, বিকালে মমিন আমাকে বলেন যে, ভাই বরুড়া যাব, চলেন। আমিও তার সঙ্গে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি একটা ঝামেলা হচ্ছে। আমরা সে ঝামেলায় জড়াইনি। সেখান থেকে চলে আসি। মারধরের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।
ছাত্রলীগ নেতা মমিন জানান, রেজা ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে আমার অনেক আগের সম্পর্ক। উনার ভাইয়ের সঙ্গে ঝামেলা শুনে দেখতে যাই। মাহী ভাইসহ কয়েকজন আমার সঙ্গে যায়। আমরা সেখানে গিয়ে তার ভাইকে দেখে চলে আসি। কিন্তু এখানে আসার পর কী থেকে কী হলো বুঝতে পারিনি। আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে খুব অসুস্থ।
ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা-ই ইলাহী বলেন, মমিনের সঙ্গে আমার প্রায় ১০-১২ বছর ধরে সম্পর্ক পারিবারিকভাবে। আমার ভাইয়ের সঙ্গেও খুব ভালো সম্পর্ক। তার বিপদের কথা শুনে ওরা দেখতে আসে। পরে চলে যায়। তারা কোনো ঝামেলায় জড়ায়নি। তাদের মারধর করা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া কিছু নয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাখা ছাত্রলীগের এক নেতা বলেন, দুজনকে প্রচুর মারধর করেছে কয়েকজন নেতা। হয়তো ভয়ে তারা কিছু বলবে না। বিষয়টি দুঃখজনক।’
শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, তারা রেজার এলাকায় গিয়ে কোপাইছে। সংগঠনের অনুমতি ব্যতীত তারা এলাকায় মারামারি করছে। ওই এলাকার মানুষ আমাদের বলেছে। বিষয়টি নিয়ে পোলাপান ক্ষুব্ধ ছিল। এ কারণে মারছে। তবে তেমন মারেনি।
পোলাপান যদি রাতে আবার হলে মারে, এ জন্য তাদের আপাতত হলে না থাকার জন্য বলেছি। এ ছাড়া একজনের কাছে আমাদের সংগঠনেরই প্রায় হাজারখনেক স্ক্রিনশট আছে। এরা সংগঠনের ভেতর ঝামেলা করছে।
শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি মারধরের বিষয়টি স্বীকার করলেও সাধারণ সম্পাদক মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কই, তাদের তো কেউ মারেনি। মারার বিষয়টি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
তা হলে মারধর শেষে এক নেতার জামাকাপড় ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়ে বলেন, আমাদের সামনে ছিঁড়তে পারে না। নতুবা মানুষ আমাদের দোষ দেবে না? বিষয়টি বলে তিনি প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, আমি এ বিষয়টি জানতাম না। এখন শুনেছি। কেউ অভিযোগ না করলে তো আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি না।
ভয়ে যদি কেউ অভিযোগ না করে তা হলে কি প্রক্টরিয়াল বডি কোনো ব্যবস্থা নেবে না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ব্যবস্থা নেয়ার পর যদি তারা আবার অস্বীকার করে তা হলে আমরা কীভাবে ব্যবস্থা নেব। তবু আমি বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা নেব। আর ছাত্রলীগ তো কাউকে হল থেকে বের করে দিতে পারে না।
আরো পড়ুনঃ