করোনা আতঙ্কের মাঝেই পাহাড়ে হামের আক্রমণ, ৫ শিশুর প্রাণহানি, আক্রান্ত শতাধিক

অনলাইন ডেস্ক।।

8
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের শিয়ালদহ গ্রামে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে এক সপ্তাহে পাঁচ শিশুর মত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে ইউনিয়নটির তিন গ্রামে আরও প্রায় ১০০ শিশু আক্রান্ত হয়েছে রোগটিতে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা. বিপাস খীসা।মৃত শিশুরা হলো— রোজিনা ত্রিপুরা (৩), কহেন ত্রিপুরা (সাড়ে ৩ বছর), বিশন ত্রিপুরা (১১ মাস)।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা নয়ন জানিয়েছেন, সাজেক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী তিনটি গ্রাম অরুণপাড়া, নিউথাংপাড়া এবং হাইচপাড়ায় গত কয়েকদিনে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এতে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে পাঁচ শিশু মারা গেছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দুর্গম ও সীমান্তবর্তী শিয়ালদহ এলাকার তিনটি গ্রামের শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাচ্ছি। বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানোর সাথে সাথেই তারা পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে গ্রামগুলো অত্যন্ত দূরে। হেঁটে যেতে হয় বিধায় সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো কঠিন হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার একটি মেডিকেল টিম সেখানে যাচ্ছে, সেখানকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে আক্রান্ত শিশুদের হেলিকপ্টারে খাগড়াছড়ি শহরে নিয়ে যাওয়া হবে চিকিৎসার জন্য।
রাঙ্গামাটির সিভিল সার্জন বিপাশ খীসা বলেন, আমরা জেনেছি দুর্গম ওই এলাকায় হঠাৎ হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। হাম থেকে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে শিশুরা অসুস্থ হচ্ছে। আমরা জরুরি মেডিকেল টিম সেখানে পাঠিয়েছি। শুক্রবার বিজিবির সহযোগিতায় সেখানে হেলিকপ্টারে করে বিশেষ আরেকটি মেডিকেল টিম যাবে।
আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ির সবচেয়ে দুর্গম ইউনিয়ন সাজেক। সাজেক পর্যটনকেন্দ্র ছাড়া বাকি এলাকাগুলো অত্যন্ত দুর্গম। সেখানকার শিয়ালদহ এলাকাটিকে সবচেয়ে বেশি দুর্গম বলে বিবেচনা করা হয়। প্রায়ই সেখানে দুর্গমতার কারণে খাদ্যাভাব ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির ঘটনা ঘটে।
২০১৫ সালের মে মাসে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ওই এলাকায় সাতজনের মৃত্যু হয়। ৬০৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সাজেক ইউনিয়নে লোকসংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার। কিন্তু যোগাযোগ দুর্গমতা ও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় জরুরি চিকিৎসাসেবা সেখানে নিয়মিত পৌঁছায় না।
আরো পড়ুনঃ