কুমিল্লায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন বাবা-মেয়ে

মারুফ হোসেন, বুড়িচং

1,208
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমুল ইউনিয়ন পরিষদের বাকশীমুল গ্রামের মহেজের পাড়ার হিন্দু বাড়ির মোহাম্মদ বশির নামে একজন লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। মোহাম্মদ বশির এর পূর্ব নাম ছিল বিষ্ণু সরকার পিতা চন্দন চন্দ্র সরকার মাতা মাধবী রানী সরকার।
ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তিনি মজিবুর রহমান পিতা রফিক নামক একজন ব্যক্তির বাড়িতে থাকতেন। তার পরিবারের সাথে মোহাম্মদ বশির খাবার ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করেন।পরে এলাকার লোকজন তাকে বাকশীমুল বাজারের জামে মসজিদের সাথে একটি ঘর করে দেন। সেখানে মসজিদের মোয়াজ্জেম হাফেজ মোহাম্মদ সবুজ আহমেদের কাছ থেকে ইসলামিক নিয়মাবলি শিখছে।
তার সাথে কথা বলার সময় তিনি বলেন আমি বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছে এবং মাওলানাদের ওয়াজ বক্তব্য শুনেছি। আমার ইসলাম ধর্ম অনেক ভালো লাগে। ইসলাম ধর্ম হচ্ছে আমর প্রিয় ধর্ম। আমার হিন্দু ধর্ম ভালো লাগে না। আমি আমার বাকি জীবনটা ইসলামের পথে রাখতে চাই। ইসলামিক নিয়ম কানুন মেনে আমি আমার জিবন গড়তে চাই।
গত ২৬ শে জানুয়ারি ২০২০ তারিখে মোকাম কুমিল্লা বিজ্ঞ নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণে এভিডেভিটে সাক্ষর করেন।
গত ২৯ শে জানুয়ারি ২০২০ ১৬ই মাঘ ১৪২৬ বাংলা রোজ বুধবার বাকশীমুল বাজারে এক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে আলহাজ্ব হযরত মাওলানা হাফেজ ওবায়দুস সোবহান মামুন সাইদী সাহেব এর উপস্থিতিতে তাঁর চাচা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আমিমুল এহসান সাহেব ( খতিব বাকশীমুল বাজার জামে মসজিদ) এর কাছে তওবা পড়ে কালিমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
জনাব মোঃ বশিরের মেয়ে মোসাম্মৎ রাবেয়া বশরী ফাতেমা। তার পূর্ব নাম ছিল অর্পনা রানী সরকার।সে গত ১৫/০৩/২০২০ তারিখের মোকাম কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার ধর্ম এভিডেভিড করে।২০/০৩/২০২০ তারিখে আলহাজ্ব হযরত মাওলানা আমিমুল এহসান সাহেব ( খতিব বাকশীমুল বাজার জামে মসজিদ) এর কাছে তওবা পড়ে কালিমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।
মোসাম্মৎ রাবেয়া বশরী ফাতেমা জানান যে তার ইসলাম ধর্ম অনেক ভালো লাগে। সে তার জীবন এখন থেকে সুন্দর পথ ইসলামের পথে পরিচালিত করতে যায়। তার মা সম্পর্কে জিজ্ঞেসাা করলে সে বলে আমার মা আমাকে আমার বাবার কাছে দিয়ে গিয়েছে। সে আমার সাথে ও আমার বাবার সাথে থাকবে না। আমার মা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে না। সে এখন মোহাম্মদ শাহপরান( মালোশিয়া প্রবাসী) পিতা মৃত আবদুল রফিক এর বাড়িতে শাহপরানের বোনের সাথে থাকছে।
পর্যায়ক্রমে সে বলে আমার মা আমাকে যেতে বললে তার সাথে যোগাযোগ থাকবে। তবে মা বললে ও হিন্দু ধর্মের কোনো অনুষ্ঠানে আমি যাচ্ছি না। কারন এখন আমি মুসলিম। সবাই আমার জন্য ও আমার বাবার জন্য দোয়া করবেন।
আরো পড়ুনঃ