কুমিল্লায় হাসপাতালে ফের নবজাতকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি-হোমনা।।

112
কুমিল্লার হোমনা উপজেলা সদরের সেই “লাইফ কেয়ার হসপিটালে ফের নবজাতকের মৃত্যুর ঘটেছে। এই ঘটনায় নিহত নবজাতকের দাদার অভিযোগে লাশ উদ্ধার করে বুধবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন হোমনা থানা পুলিশ। নিহতের ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ মার্চ মঙ্গলবার ভোরে ১ সয্যা বিশিষ্ট লাইফ কেয়ার হাসপাতালে।
অভিযোগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২৩ মার্চ রাতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রাধানগর গ্রামের মৃত মরম আলী মেয়ে ও হোমনার ভঙ্গারচর গ্রামের মো. তাহের আলী ছেলে সৌদী প্রবাসী মো. তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী প্রসূতী ইয়াসমিন আক্তারকে (২৩) প্রসব ব্যাথা নিয়ে হোমনা লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে সিজারীয় অপারেশনের মাধ্যমে একটি নবজাতকের জন্ম দেয় ওই প্রসূতী। তবে নবজাতকের জন্য শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ কোন চিকিৎসক না থাকায় উন্নত চিকিৎসার অভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারদের হাতের কাছেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে ভিকটিমের পরিবার সাংবাদিকদের জানায়, সিজারের পরই শিশুটি কাপতে কাপতে মারা গেলো। আমরা তো বুঝিনা কি কারনে মারা গেলো। থানায় অভিযোগ দিছি। আমরা ন্যায় বিচার চাই।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, আমাদের কোন অবহেলা নেই। প্রসূতী ভালো রয়েছে, তবে শিশুটির জন্য বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় তার মৃত্যু হয়েছে। আমরা সরকারী হাসপাতালে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েও ছিলাম। তারা কোন ব্যবস্থা না নিয়ে ফের আমাদের হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।
হোমনা থানার এসআই সেকান্দার বলেন, আসলে ময়নাতদন্ত ছাড়া বলা যাবেনা। শিশুটি কি কারণে মারা গেছে। হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা আবদুস সালাম সিকদার সংবাদকে বলেন, শিশুটির মৃত্যুর বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আরেক প্রশ্নের জবাবে বলেন, লাইফ কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট হাসপাতাল পরিচালনার বৈধ কাজগপত্র আছে কি জানতে চেয়ে নোটিশ করা হলেও সে কোন কাগজপত্র জমা দেয়নি। খুব দ্রুত তদন্ত কমিটি করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে একইভাবে ডাক্তারের অবহেলায় এক প্রসূতী মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তখন থানায় অভিযোগ হলেও কোন আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সে সময় গোপনে রফাদফা করে ফেলে। বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরো পড়ুনঃ