‘ইউএনও হচ্ছে নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ’, করতালি বিতর্কে নিজেই বললেন ইউএনও
পীরগঞ্জ(ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমানের রাজনৈতিক বক্তব্যের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদারের হাততালি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ইউএনও মন্তব্য করেছেন, ‘লিখে দেন, ইউএনও হচ্ছে নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ।’
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর সেনগাঁও ইউনিয়নের একটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান। সেখানে বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাকে আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করেছেন। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে আবারও বর্তমান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান প্রার্থী হিসেবে থাকবেন। আপনারা সবাই তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।’
এমপির দুই মিনিটের বেশি সময়ের ওই বক্তব্যের সময় পাশে বসা পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদারকে সবার আগে হাততালি দিতে দেখা যায়। পুরো বক্তব্যজুড়েই তাঁকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানাতে দেখা গেছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়ে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী বক্তব্যে এভাবে প্রকাশ্যে করতালি দেওয়ার ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, ‘তাহলে লিখে দেন, এমপির সাথে ইউএনও নির্বাচনী প্রচারণায়। আপনি শোনেন, এভাবে বলেন যে ইউএনও হচ্ছে নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ, ঠিক আছে?’
নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যে সরকার থাকত, যে দলের সরকার থাকত, আমি সেই দলেরই নেতা। বোঝা গেছে মেসেজটা? আমার দল আছে। আমার দল কী? সরকারি দল। আমার আদর্শ সরকারি দলের আদর্শ। তাহলে আপনার ওই অংশটুকুই খালি ক্লিপে বের করেন আর লিখে দেন, যাতে করে আমি একটু ভাইরাল হই সারা দেশে। আই ওয়ান্ট টু বি ভাইরাল, ওকে?’
ইউএনও আরও বলেন, ‘এগুলোর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা আমার কেন, আমার সেক্রেটারিরই নাই, আমার ডিসি স্যারের নাই, আমার কমিশনার স্যারের নাই। পরিষদের আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সব কাজ মাননীয় সংসদ সদস্যকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে। চিঠি আছে আমার কাছে, দেখবেন আপনি?’
সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাজনৈতিক নেতারা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঠাকুরগাঁও জেলার সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে একজন এমপির রাজনৈতিক বক্তব্যে হাততালি দিতে পারেন? যেখানে এমপি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজনকে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছেন, সেখানে ইউএনও অতিউৎসাহী হয়ে সবার আগে হাততালি দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে নেটিজেনদের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ওই কর্মকর্তা।
ফেসবুকে অনেকেই সরকারি কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একজন লিখেছেন, ‘যেখানে প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্যে উৎসাহ নিয়ে তালি দেন, সেখানে এমন ইউএনও থাকলে আগামী কোনো নির্বাচনই নিরপেক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’ আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ‘প্রশাসনের যদি এই অবস্থা হয়, তবে সাধারণ মানুষ নিরপেক্ষতার জন্য কার কাছে ভরসা রাখবে?’