কুড়িগ্রামে জমি বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা দিয়েও চাকরি হয়নি, কচাকাটা ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ

শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা ডিগ্রি কলেজে চারটি শূন্য পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চাকরি পাওয়ার আশায় এক প্রার্থী জমি বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা দিয়েও নিয়োগ পাননি। এ ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ ও পরিচালনা পর্ষদের গভর্নিং বডির সভাপতি সহ কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় এক পরিক্ষার্থীর পিতার অভিযোগ, ল্যাব সহকারী এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরসহ মোট চারটি পদে নিয়োগের জন্য গত ২৪ অক্টোবর শনিবার পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে পরীক্ষার পর ৭২ ঘন্টা পার হলেও এখন পযন্ত কেন ফল প্রকাশ করা হয়নি এ নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এসব পদে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কোনো কোনো পদের বিপরীতে ২০ লাখ টাকা বা তারও বেশি অর্থ লেনদেনের কথা শোনা যাচ্ছে। তবে এসব লেনদেনের মোট পরিমাণ, অর্থের প্রকৃত গ্রহীতা এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের সবচেয়ে আলোচিত অংশটি এক প্রার্থীকে ঘিরে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, চাকরি পাওয়ার আশায় ল্যাব সহকারী পদে সেলিনা আক্তার এর পিতা পনির উদ্দিন,তিনি একজন কৃষক ও মসজিদের ইমাম,তিনি জমি বিক্রি করে এবং সুদে টাকা নিয়ে মেয়ের চাকুরী পাওয়ার আশায় গত দুই মাস আগে ওই কলেজর স্টাফ তার এক নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে কলেজর পিন্সিপাল রফিকুল ইসলাম জুয়েল এর নিকট ১৭ লক্ষ টাকা প্রদান করেন। চাকুরী হবার পড় বাকি তিন লাখ টাকা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে চাকুরী না দিয়ে ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মোঃ রোকুনুজ্জামান নামে অন্য এক প্রার্থীকে চাকুরী দেয়ার অভিযোগ করেন সেলিনা আক্তারের পিতা পনির উদ্দিন। তাঁর দাবি, এ ঘটনায় তাঁর প্রায় ১৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

নিয়োগ পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পরীক্ষার আগেই কয়েকজন প্রার্থীকে প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়েছিল। পরে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে প্রশ্নপত্র তৈরি ও লেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, অর্থ লেনদেন ও কথোপকথনের অডিও রেকর্ড তাঁদের কাছে রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিযোগকারীরা নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে—পরীক্ষার ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান, অভিযোগে উল্লিখিত আর্থিক লেনদেন যাচাই, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তদন্ত এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।

তাঁরা আরও দাবি জানিয়েছেন, অর্থ দিয়ে প্রতারিত হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী যেন আইনগত প্রতিকার ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ পান।

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু চাকরিপ্রার্থীদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগব্যবস্থার ওপরও মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। কলেজর পরিক্ষায় দুর্নিতী ও টাকা নেওয়ার বিষয়ে অত্র কলেজর পিন্সিপাল রফিকুল ইসলাম জুয়েল এর ০১৭১৪৩৩৩০০৬ নং নাম্বারে কয়েক বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি রিপ্লাই দেন নাই।

এ বিষয়ে পরিক্ষায় অংশ নেওয়া ডিজির প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজর অধ্যক্ষ ডক্টর মোঃ আনোয়ার হোসেন মন্ডল এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন পরীক্ষা স্বচ্ছ হয়েছে, দুর্নীতি হয়নি। গত ২৪ অক্টোবর শনিবার পরীক্ষা নেয়া হলেও কেন রেজাল্ট দিতে বিলম্ব হচ্ছে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৬ অক্টোবর রাতে নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নে কলেজের প্রিন্সিপালের নেতৃত্বে অত্র কলেজ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সকল সদস্যরা মিলে একটি গোপন বৈঠক করে রেজাল্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রেজাল্ট দিয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।

এ বিষয়ে অত্র কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডাক্তার মোঃ ইউনুস আলীর সাথে কথা হলে তিনি বিরক্তির সুরে বলেন, আমি কিছু জানি না, আমাকে এ ব্যাপারে বার বার ফোন দিবেন না বলে ফোন কেটে দেন। ভুক্তভোগী সেলিনা আক্তারের পিতার দাবি অবিলম্বে এ প্রহসনের নিয়োগ বাতিল করে নতুন পরিক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করার জন্য মানবিক প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

আরো দেখুনঃ