কুড়িগ্রামে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, নিয়োজিত ১ হাজার ৭১ কর্মী

শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

‘ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম, স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার প্রতিশ্রুতি’ স্লোগানে সারা দেশের ন্যায় কুড়িগ্রামেও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে সোমবার (১২ অক্টোবর) শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের হলরুমে অবহিতকরণ প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, সদর ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়, কুড়িগ্রাম এর আয়োজন করে।

এতে বক্তব্য দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক হুমায়ূন কবির, সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান মন্ডল ও শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, কুড়িগ্রাম জেলায় তথ্য সংগ্রহের জন্য ৯৭৩ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৯৮ জন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োজিত করা হয়েছে। এর মধ্যে শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় ৩৭ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও চারজন তত্ত্বাবধায়ক এবং সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের আওতায় ১০৯ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ১১ জন তত্ত্বাবধায়ক কাজ করবেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীরা বিশেষায়িত ট্যাবের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন তথ্যভান্ডারে যুক্ত করবেন।

কর্মসূচির আওতায় পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) পদ্ধতিতে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। সব নারী পরিবারপ্রধান কার্ড পেলেও পিএমটি স্কোর অনুযায়ী প্রথম তিন শ্রেণির যোগ্য পরিবারগুলো ভাতা পাবে। ৮৬০ বা তার কম স্কোর পাওয়া নারী পরিবারপ্রধানেরা ভাতা পাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন।

প্রেস কনফারেন্সে আরও জানানো হয়, ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশে প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। চলতি অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে কার্ড ও ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী তিন অর্থবছরে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

উপকারভোগীদের কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি থাকবে। কার্ডটি সরকারের টাকাপে পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের বিক্রয়কেন্দ্র ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ভাতার টাকা তোলা যাবে।

উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা হিসেবে বরাদ্দ রয়েছে।

আরো দেখুনঃ