কুমিল্লায় উপমহাদেশের প্রখ্যাত শিল্পী শচীন দেববর্মন এর ১২০ তম জন্মবার্ষিকীতে শ্রদ্ধানিবেদন

জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, কুমিল্লা

কুমিল্লায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী শচীন দেববর্মন এর ১২০ তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বৃহষ্পতিবার সকালে নগরীর চর্থায় শিল্পীর পৈত্রিক বাড়ীতে স্থাপিত ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মিজ রোজী আকতার সহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসনের পর জেলা শিল্পকলা একাডেমি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিসসহ জেলার বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন একে একে পুষ্পস্তবক অর্পন করে শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

এসময় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: আবুল বাশার ভূঁঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি, উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) সুলতানা রাজিয়া, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা, সহযোগী অধ্যাপক অধ্যাপক সংগীত শিল্পী জুবায়দা নূর খান, সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক সরকার, জেলা কালচারাল অফিসার এসটিএম কামরান হাসান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জামিল আহেমেদ খন্দকার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড. শাহ্ মো: সেলিম, নারী নেত্রী জে এন লিলি, জাসাস কুমিল্লা মহানগর শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ পল্লব, সাধারণ সম্পাদক সহিদুল হক সোহেল, ঐতিহ্য কুমিল্লার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, সাবেক কালচারাল অফিসার বশিরুল আনোয়ার, সাংবাদিক অশোক বড়ুয়া সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর চর্থার এই বাড়ীতে ত্রিপুরার রাজপরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শচীন। তিনি ১৯২৪ সাল পর্যন্ত কুমিল্লায় ছিলেন। পরবর্তীতে শচীন ভারতের বোম্বেতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

ঐতিহ্য কুমিল্লার সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল বলেন, দীর্ঘ দিন পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিলো শচীণ কর্তার এই বাড়ীটি। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৭ সালে দেশ ভাগের পর বাড়ীটিতে সরকারী হাস-মুরগীর খামার তৈরীকরে পাকিস্থান সরকার। ২০১৪ সালে মাছরাঙা টেলিভিশন ও বাংলামেইলে প্রতিবেদন প্রচার হলে জেলা প্রশাসনের নজরে আসে বাড়ীটি। এর পরপরই বাড়ীর একাংশ জেলা প্রশাসনের দখলে নিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঐতিহ্য কুমিল্লা’ বাড়িটি নিয়ে প্রশাসনের সাথে কয়েক দফায় আলোচনা স্মরাকলিপি প্রদান করা হয় বাড়ীটি সংস্কারে। এর পর ২০১৪ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক আদলে সংস্কার করা হয় বাড়ীটি।

শিল্পীর মূর‌্যালে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জেলা প্রশাসক মিজ রোজী আক্তার বলেন, কুমিল্লাবাসীর জন্য অত্যান্ত গর্বের বিষয় যে উপমহাদেশের বরণ্যে সঙ্গীতজ্ঞ শচীন দেববর্মন এর বাড়ি কুমিল্লায়। শচীন দেববর্মণের জন্ম-মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছরই দুইদিন ব্যাপী শচীন মেলার আয়োজন করাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। হয়। এবারও তা আয়োজন করা হবে জানান জেলা প্রশাসক।

এছাড়া শিল্পীর বাড়ীটিকে সংরক্ষণের জন্য আরো উদ্যোগ নেওয়া হবে জানান প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা। তিনি বলেন, সারা বছরই যেন বাড়িটিতে উৎসব মুখর থাকে সে বিষয়ে নানামুখী পরিকল্পনার করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হবে।

১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইতে মারা যান শচীন দেববর্মণ। সেখানেই তাকে সমাহিত করা হয়।

আরো দেখুনঃ