কুমিল্লায় তেল পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির ডগ স্কোয়াড

নেকবর হোসেন কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত দিয়ে কোনোভাবেই যেন তেল প্রতিবেশী দেশে পাচার হতে না পারে, সেজন্য বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি ও পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষ ডগ স্কোয়াডও।

বিশেষ করে কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দর এলাকায় নজরদারি আরও জোরালো করা হয়েছে। এই বন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশকারী ট্রাক ও লরিগুলোকে ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে নিবিড়ভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে। সন্দেহজনক কোনো যানবাহন বা পণ্য পেলেই তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে বিজিবি জানিয়েছে।

এদিকে আজ শনিবার (৭ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিবিরবাজার স্থলবন্দর ও কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন তেলের পাম্প ঘুরে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। নগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও কোথাও পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তেল নিতে এসে অনেক গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালককে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক গ্রাহক তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন।

নগরীর চকবাজার এলাকার নুরুল হুদা পাম্পের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনেক চালকই মানছেন না। মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার তেল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অনেকে বেশি নিতে চান। তারা একবার তেল নিয়ে আবার ঘুরে এসে লাইনে দাঁড়ান। এভাবে নিয়ম অমান্য করলে সরবরাহ ঠিক রাখা কঠিন।অন্যদিকে চালকদের অভিযোগ, নির্ধারিত সীমা মেনে তেল বিক্রি না করে অনেক পাম্পে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

ভুক্তভোগী চালক আবদুল আউয়াল জানান, পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও পাম্প মালিক ও অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।

তবে পাম্প মালিকদের দাবি, হঠাৎ করে গ্রাহকদের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের (১০ বিজিবি) উপ-অধিনায়ক মেজর মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ডগ স্কোয়াড কাজ করছে। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা এবং যাওয়া- সব গাড়ির ফুয়েল ট্যাংকে তেলের পরিমাণ পরীক্ষা করা হচ্ছে। তেল পাচারসহ সব ধরনের মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর।

আরো দেখুনঃ