কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষ: তদন্তে একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থার গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে।
নেকবর হোসেন কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে লেভেল ক্রসিংয়ে বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে রেলওয়ে, সড়ক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্বে গাফিলতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
আজ রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে তদন্ত কমিটির প্রধান ও কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের দপ্তরে ১১ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেন। তদন্ত কমিটি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আটটি সুপারিশ করেছে।
জাফর সাদিক চৌধুরী জানান, তদন্তে ছয়টি গুরুতর অনিয়ম বা ব্যত্যয় চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, পদুয়ার বাজারে লেভেল ক্রসিংয়ের চারজন গেটম্যান, বিজয়পুর লেভেল ক্রসিংয়ের দুজন গেটম্যান, লালমাই রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার, ট্রেনের দুই লোকোমাস্টার, সংশ্লিষ্ট বাসচালক এবং সড়ক বিভাগের নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অবহেলা তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দুর্ঘটনার সময় লেভেল ক্রসিং ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব, নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ না করা এবং দায়িত্ব পালনে শৈথিল্য ছিল। এ ছাড়া সড়ক নির্মাণ বা সংস্কারকাজের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেও প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে আটটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে লেভেল ক্রসিং ব্যবস্থাপনায় আধুনিকায়ন, দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিরাপত্তাব্যবস্থার কড়াকড়ি এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা।
২১ মার্চ দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত হন এবং আহত হন অন্তত আটজন। দুর্ঘটনার পর করা একটি মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুজন গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে।
দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সদস্য হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন ও রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা আসিফ খান চৌধুরী।