কুমিল্লার ১১ আসনের মধ্যে প্রথমবার বিজয়ী হয়ে সংসদে যাচ্ছেন ৬ এমপি

নেকবর হোসেন কুমিল্লা প্রতিনিধি

রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন করেই বাজিমাত করেছেন কুমিল্লার ৬ জন। তারা সবাই ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। বিজয়ীদের মধ্যে বিএনপির চারজন, একজন সতন্ত্র এবং জামায়াত জোটের একজন।

নির্বাচনের প্রকাশিত গেজেট ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। তিনি পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৪৫ ভোট।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-(এনসিপির) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৮৮৫ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও চার বারের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপী ও হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল হয়। এতে শেষ সময়ে এসে বিএনপি জোট থেকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হলেও ধানের শীষবিহীন হাসনাতকে বিজয়ী হতে বড় যুদ্ধে নামতে হয়নি।

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তিনি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি। এর আগে তিনি দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ছিলেন। এখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মোবারক হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৪৭ ভোট।

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে বিজয়ী বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন পেয়েছেন ৯১ হাজার ৬৯০ ভোট। শাওন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায় গত ২১ জানুয়ারি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ২৬ জানুয়ারি শাওনের নেতৃত্বাধীন উপজেলা বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। তবুও ভোটের মাঠে অপ্রতিরোধ্য বিদ্রোহী শাওনকে ঠেকাতে পারেননি এলডিপির মহাসচিবের পদ ছেড়ে এসে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সাবেক মন্ত্রী ও এ আসনের ৪ বারের সাবেক এমপি ড. রেদোয়ান আহমেদ। ড. রেদোয়ান পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৫০৯ ভোট।

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সৈয়দ সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৯৬১ ভোট। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা প্রতীক বরাদ্দের পর দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে সমঝোতা করায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন আবুল কালাম।

কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনে বিএনপির প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইয়াসিন আরাফাত পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৩ ভোট। এ আসনে বিএনপির প্রথম মনোনয়ন পাওয়া আবদুল গফুর ভূঁইয়ার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়। এতে ভাগ্য খুলে যায় মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার। পরে দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় তিনি বিজয় লাভ করেন।

আরো দেখুনঃ