গুইমারায় ছাত্র-যুবসমাজের স্মরণে শ্রদ্ধা ও ক্ষোভের বিস্ফোরণ: সকল নৃসংতার বিচারের দাবি
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

“গুইমারা ছাত্র-যুবসমাজের গর্ব তিন বীর শহীদকে স্যালুট! জনগণের জন্য যারা জীবন দেন, তাদের স্মৃতি অম্লান”— এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে গুইমারায় শহীদ আক্রই, আথুই ও থৈইচিং-এর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) গুইমারা রামেসু বাজার সংলগ্ন এলাকায় ‘শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ’ ও ‘ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদ’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
স্মরণসভার পূর্বে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সাইরেন বাজিয়ে দুই মিনিট নীরবতা পালন এবং শপথ বাক্য পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে একটি চৌকস টিম শহীদদের প্রতিকৃতি স্থাপন করেন এবং উপস্থিত সবাই কালো ব্যাজ ধারণ করেন। শহীদ জুনান, রুবেল, আক্রই ও আথুইপ্রুর মা সহ বিভিন্ন পাহাড়ি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
স্মরণসভায় ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বক্তারা পাহাড়ে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের তীব্র বিচারহীনতার সমালোচনা করেন। শহীদের মায়েরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচার না পাওয়ার আকুতি প্রকাশ করেন।
লক্ষ্মীছড়ি ১ নম্বর ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা ও অন্যান্য স্থানীয় ইউপি প্রতিনিধিরা অভিযোগ করে বলেন, ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে গুইমারা রামেসু বাজারে অগ্নিসংযোগ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। পাহাড়ি সংগঠন হিল উইমেন্স ফেডারেশন, ইউপিডিএফ, পিসিপি এবং গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের প্রতিনিধিরা পাহাড়ের বৈষম্য, নির্যাতন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির তীব্র প্রতিবাদ জানান।
বক্তারা বলেন, অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পাহাড়িদের ওপর দমন-পীড়ন ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তকমা দেওয়া কোনো সমাধান আনবে না। সরকারের উচিত পাহাড়ে সেনা-শাসকশ্রেণীর সৃষ্ট সংকট নিরসন করে বিচারের সুবাতাস বয়ে আনা।
সভা থেকে আগামী ১৩ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রামের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনির শহীদ দিবসে ‘কনভেনশন’ আয়োজনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সবশেষে একটি প্রতিবাদী নাটিকা পরিবেশন এবং সন্তু লারমা ও ধর্ষকদের প্রতীকী কুশপুত্তলিকা দাহ করার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।