ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল খনন উদ্বোধন করলেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ

নেকবর হোসেন কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল থেকে দেশব্যাপী সরকারের খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে খনন কাজ উদ্বোধন করেছেন খাদ্য, কৃষি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদ।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ওই খালটির ৫৩০০ মিটার খনন কাজের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী।

কৃষি মন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, ‘যারা খাল দখল করেছে তারা প্রভাবশালী নয়, বরং অন্যায়কারী, দুষ্কৃতিকারি। তাদেরকে এসব দখল ছেড়েই দিতে হবে। কোনো আমলে দখলের উৎসব চলেছে, তাই অনেকে গা ভাসিয়ে খাল নদী দখল করেছেন। এসব দখলদারিত্ব ছেড়ে দেন, কারণ আপনাকে ছেড়ে দিতেই হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা-১০ লালমাই নাঙ্গলকোট আসনের সংসদ সদস্য মোবাশার আলম ভুইয়া, বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানসহ স্থানীয় কৃষকরা।

লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতু জানান, লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের দোশাঁরি চর মাঠ থেকে ডাকাতিয়া নদী পর্যন্ত খালটি খননের জন্য বিএডিসি নির্ধারন করেছে। এই খাল খননের ফলে ৪২ গ্রামের প্রায় ২৫০০ কৃষি পরিবার উপকৃত হবে। ২ হাজার হেক্টর কৃষি জমি জলাবদ্ধতা থেকে পরিত্রান পাবে।

তিনি আরও জানান, এই খালের জমিগুলো তিন ফসলি। কিন্তু সাম্প্রতিক বর্ষায় এসব জমি জলাবদ্ধতার শিকার হয়। এই খাল খননের ফলে এসব জমিতে আবারো তিন ফসল উৎপাদন পাওয়া যাবে।

কৃষক অলিউল্লাহ বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য উপকার। তিন ফসল করতে পানিও পাওয়া যাবে আবার বর্ষায় পানি নেমেও যাবে। তবে এটা যেন আবার ভরাট না হয়।’

স্থানীয়রা জানান, খালের আশেপাশের বিস্তীর্ণ কৃষি জমি থেকে বর্ষার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র উপায় এই খালটি। বর্তমানে এই খালটি ভরাট হয়ে সরু হয়ে গিয়েছে। যে কারণে বর্ষার পানি মাঠে জমে থাকে এবং এই খাল দিয়ে নিষ্কাশিত হয় না। জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষা মৌসুমের বেশিরভাগ সময় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই খালটি পুনরায় খনন করা হলে স্থানীয় কৃষকরা তাদের ফসল বাঁচাতে পারবে। এছাড়া শুকনো মৌসুমে এই খালের পানি হয়ে উঠবে এই অঞ্চলের কৃষির পানির অভাব পূরণের অন্যতম মাধ্যম।

উল্লেখ্য, বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে খনন করা অনেক খাল এখন ভরাট অবস্থায় রয়েছে। এসব খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ খালনির্ভর অর্থনীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এতে অতিরিক্ত বন্যা থেকে সুরক্ষা মিলবে এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের সুবিধা পাওয়া যাবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বিএডিসির সমন্বয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘শুধু খনন নয়, খালের পাড় রক্ষা, বাঁধ নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও নেওয়া হবে। খালের পানি বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে কৃষি উৎপাদন বাড়ে এবং স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়।

আরো দেখুনঃ