নীলফামারীতে নির্বাচনী উত্তাপ শেষ দিনে মনোনয়ন জমা দিলেন ৩৩ জন।
নীলফামারী প্রতিনিধি।

নীলফামারীতে উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোর সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের কাছে এসব আবেদনপত্র জমা দেন প্রার্থীরা।
মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় প্রার্থীদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, এলডিপি, বাংলাদেশ ন্যাপ, খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বিএনএফ ও বাসদসহ (মার্ক্সবাদী) বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।
এবারের নির্বাচনে নীলফামারীর চারটি আসনে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট ও আলোচিত প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন:
নীলফামারী-২ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
নীলফামারী-১ বাংলাদেশ ন্যাপ-এর চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
নীলফামারী-২ (স্বতন্ত্র) জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল এবং বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মিনহাজুল ইসলাম মিনহাজ।
জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তারসহ আরও অনেকে।
পরিসংখ্যান ও আসনভিত্তিক তথ্য
রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার চারটি আসনে মোট ৪৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত জমা দিয়েছেন ৩৩ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নীলফামারী-১ আসনে ১০ জন
নীলফামারী-২ আসনে ০৭ জন
নীলফামারী-৩ আসনে ০৪ জন
নীলফামারী-৪ আসনে ১২ জন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, “আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। বিজয়ী হলে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বেকারত্ব দূরীকরণে কাজ করব।” অন্যদিকে, ‘গাভী’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জেবেল রহমান গানি বলেন, “নির্বাচিত হলে ডোমার-ডিমলার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলব।”
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানান, ৩০ ডিসেম্বর থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি সংক্রান্ত একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে সকল প্রার্থীকে বিধিমালা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।