​নীলফামারীতে রাস্তা কেটে ১৪ পরিবারকে অবরুদ্ধ দুর্ভোগে শতাধিক নারী পুরুষ

​নীলফামারী প্রতিনিধি।

নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের অধিকারী পাড়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি অবৈধভাবে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের ইটাখোলা ইউনিয়ন এর আহ্বায়ক গোকুল চন্দ্র রায় ও শ্যামল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে এই রাস্তা কেটে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

এর ফলে এলাকার ১৪টি পরিবারের শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু চরম অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একই সাথে ওই এলাকার একমাত্র ঐতিহ্যবাহী সার্বজনীন কালী মন্দিরে যাতায়াত ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনও সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি কেটে অত্যন্ত সংকীর্ণ বা চিকন করে ফেলার কারণে এখন ভ্যান বা অটো চলাচল সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে এলাকায় কোনো মানুষ অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই।

এছাড়া পুরো এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় কোনো স্থানে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছানো অসম্ভব। এতে যেকোনো মুহূর্তে পুরো এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

​এই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে ধনেশ্বর রায়সহ স্থানীয় বাসিন্দারা নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরাও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য এবং জরুরি ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছেন।

এ বিষয়ে গোকুলচন্দ্র রায় মুঠোফোনে জানান, আমি রাস্তা কাটি নাই, রাস্তা যতটুক দেয়া লাগে আমি দিয়েছি। তারাই আমার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ঘর উঠিয়েছে। রাস্তাটি বিনিময় হওয়ার কথা ছিল হয়নি ।

ইটাখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হেদায়েত আলি শাহফকির জানান, আমি তাদের সাথে বসে ছিলাম কিন্তু গোকুল চন্দ্র সিদ্ধান্ত মানেনি।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরাও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য এবং জরুরি ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছেন।

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্তি পেতে এবং ঐতিহ্যবাহী কালী মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার্থে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরো দেখুনঃ