বাগমারায় অবৈধ পুকুর খননের দায়ে দুইজনের কারাদন্ড
আবু বাককার সুজন, বাগমারা থেকে:

বাগমারার ঝিকরা ইউনিয়নের সেউজবাড়ি বাজার সংলগ্ন তিন ফসলি কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের দায়ে দুইজনকে আটক করে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
এ সময় গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের কনোপাড়া আনদিয়ার বাগানে এবং সেউজবাড়ি বাজারের পাশে পৃথকভাবে অভিযান চালিয়ে অবৈধ পুকুর খনন কাজে নিয়োজিত তিনটি এক্সেভেটর (ভেকু) ভেঙ্গে অকেজো করে দেওয়া হয়েছে। কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন- ঝিকরা গ্রামের মাজেদুর রহমান (২৮) এবং সাদেকুল ইসলাম (১৯)।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঞা অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এই রায় দেন।
জানা গেছে, বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের কনোপাড়া আনদিয়ার বাগানে এলাকার প্রভাবশালী একটি চক্র এবং ঝিকরা ইউনিয়নের ঝিকরা গ্রামের পুকুর খনন চক্রের মুল হোতা মাজেদুর রহমান ও সাদেকুল ইসলামের নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে সেউজবাড়ি বাজারের পাশে তিন ফসলি কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন শুরু করেন।
প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত পুকুর খননের নামে এক্সেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে ট্রাক্টরযোগে এলাকার বিভিন্ন ইটভাটায় জমির টপসয়েল বিক্রয় করা হচ্ছিল। এতে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি ট্রাক্টরযোগে বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করায় এলাকার পাকা রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এ কারণে এলাকার কৃষকরা বাধা দিলেও তাদের পাত্তা না দিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তারা অবৈধভাবে পুকুর খনন কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। এর আরগেও গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের জলপাইতলা মোড়ের পাশে আমীর আলীর অবৈধভাবে পুকুর খননের দায়ে আমিরুল ইসলাম এবং মচমইল বাজার সংলগ্ন জমিদার বাড়ীর পাশে কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের দায়ে সিরাজুল ইসলাম শাকিলকে নামে অপর দুইজনকে আটক করে এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ওই দুটি স্পটে অবৈধ পুকুর খনন কাজে নিয়োজিত মোট ৯টি এক্সেভেটর (ভেকু) ভেঙ্গে অকেজো করে দিয়ে ভেকুর ব্যাটারি খুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, মিডিয়া কর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের কনোপাড়া আনদিয়ার বাগানে এবং ঝিকরা ইউনিয়নের সেউজবাড়ি বাজারের পাশে পৃথকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় স্পটে অবৈধভাবে পুকুর খননের দায়ে মাজেদুর রহমান ও সাদেকুল ইসলাম নামে দুইজন দুষ্কৃতকারীকে আটক করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমান আদালতে তারা দোষ স্বীকার করায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে তাদের দুইজনকে এক মাস বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি কোনো দপ্তরের অনুমোতি না থাকায় ওই অবৈধ পুকুর খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসিল্যান্ড আরও জানান, এখন থেকে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে রাতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।