বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্প খননকাজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় দুই মামলা

নীলফামারী প্রতিনিধি।

​নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার সীমানায় অবস্থিত বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্পের জলাধার খননে বাধা, হামলা এবং লুটপাটের ঘটনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে জলঢাকা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় পাউবো’র দাবি, উন্নয়ন কাজে বাধা দিতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। অপরদিকে স্থানীয় কৃষকদের দাবি পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষায় তারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছেন।

​শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাতে এবং শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে জলঢাকা থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড জলঢাকা কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জুলফিকার আলী।​মামলা নং-৪, ১৯ জন নামীয় এবং অজ্ঞাত ৩০০ জন আসামী। ​মামলা নং -৫, ২২ জন নামীয় এবং অজ্ঞাত ৩৫০ জন।

দুই মামলায় সর্বমোট ৬৯১ জনকে আসামী করা হয়েছে। জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়েছে।
​পাউবো’র অভিযোগ পরিকল্পিত হামলা

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুই দফায় সংরক্ষিত এলাকায় হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা অবৈধভাবে পাউবোর জমি দখল করে আসছিল এবং সরকারি উন্নয়ন কাজে বাধা দিতেই এই সহিংসতা ঘটায়। হামলায় আনসার ক্যাম্প এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি ভাঙচুরসহ ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান দাবি করেন, এই হামলায় প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সরকারের রেকর্ডভুক্ত জমিতেই নিয়ম মেনে খননকাজ শুরু হয়েছে, যা সম্পন্ন হলে ৫ হাজার কৃষক উপকৃত হবে।
​কৃষকদের পাল্টা দাবি, তিন ফসলি জমি রক্ষার লড়াই ​এদিকে মামলার আসামী ও স্থানীয় কৃষকদের প্রতিনিধি আব্দুল আলিম জানান, তারা কোনো হামলা নয়, বরং বাপ-দাদার আমলের ৯৫৭ একর তিন ফসলি জমি এবং বসতভিটা রক্ষার চেষ্টা করছেন।

​ কৃষকদের দাবি, ১৯৬৮ সালে মৌখিক সম্মতিতে জমি অধিগ্রহণের কথা থাকলেও পরে তা আর বাস্তবায়ন হয়নি। ২০১০ সালে পাউবো এই জমি ইজারা দিতে চাইলে কৃষকরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন এবং আদালতের আদেশে দীর্ঘদিন ধরে জমি ভোগদখল করে আসছেন।

কৃষকদের অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই পাউবো ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক খননকাজ চালাতে চায় এবং প্রতিবাদ করায় তাদের নামে ‘মিথ্যা মামলা’ দেওয়া হয়েছে।

​বর্তমানে প্রকল্প এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর, অন্যদিকে শত শত কৃষক তাদের জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি জমি হারানোর ভয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তারা সজাগ রয়েছেন।

আরো দেখুনঃ