রাজারহাট হিদু ছাত্রীক শ্লীলতাহানি, অভিযুক্ত শিক্ষকর বিরুদ্ধ মামলা দায়ের
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজলায় প্রাইভেট পড়ানার সময় দশম শ্রেণির সনাতন ধর্মাবলম্বী হিদু ছাত্রী(১৫) কে শ্লীলতাহানির অভিযাগে এক লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্বে থানায় মামলা দায়ের করেছে তার বাবা। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম নুরুল আমিন। তিনি চাকিরপশার ইউনিয়নের ফুলখাঁ চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়র ইংরজি শিক্ষক।
অভিযোগ সুত্রে জানাযায়, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাকিরপশার ইউনিয়নর ফুলখাঁ চাকলা বাজার এলাকায় আরডিআরএস এর উন্নয়ন সমাজকল্যাণ সংস্হা ভবনে প্রাইভেট পড়ানোর সময় এ ঘটনা ঘটে।
নির্যাতিত ছাত্রীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরায় হয়। সেখানে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, ” প্রাইভেট পড়তে গেলে শিক্ষক নুরুল আমিন দরজা খুলে । এসময় আর কোন শিক্ষার্থী ছিলো না। রুমে বসার পরই শিক্ষক জানতে চান-রোজার সময় কি খাওয়া যায় বলো তো? জানি না জানালে। তিনি কাছে এসে জাপটে ধরে চুমু খান। ধাক্কা দিয়ে সড়ায়দিলে তিনি বলেন, ‘ডোন্ট মাইন্ড ‘। তারপর রুম থেকে বাইরে চলে যায়। আমিও প্রাইভেট না পড়েই বাসায় এসে বাবা মাকে ঘটনা জানাই। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। এ শিক্ষক যেন আর কখনো আমার মতো অন্য কোন মেয়ের দিকে হাত বাড়াতে না পারে। ”
স্হানীয় চিকিৎসক বিমল চন্দ্র রায় জানান, নুরুল আমিন চাকিরপশার ইউনিয়নর তালুক সাকোয়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে ফুলখাঁ চাকলা বাজার সংলগ্ন আরডিআরএস এর উন্নয়ন সমাজকল্যাণ সংস্হা ভবনে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতেন। আমার চেম্বারও এর পাশাপাশি। প্রতিদিনের মতো বুধবার (১১মার্চ) দুপুরে ভুক্তভাগী শিক্ষার্থী সেখানে পড়তে যায়। ওই সময় সুযােগ বুঝে ভুক্তভাগী ছাত্রীকে একা পেয়ে তাকে স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্হানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির পরে ধর্ষণের চেষ্টা করলে ভীতসন্ত্রস্ত ছাত্রী সেখান থেকে বের হয়ে বাড়িতে চলে যায় এবং কান্নাকাটি করে পুরা বিষয়টি তার মাকে জানায়। বিষয়টি জানাজানি হল এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ছাত্রীর বাবা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধ রাজারহাট থানায় একটি অভিযােগ দায়ের করেন। পরদিন ঘটনার সত্যতা পেয়ে পুলিশ অভিযাগটি মামলা হিসেবে আমলে নেন। মামলা নং ১২, তারিখ: ১২/০৩/২৬ইং। অভিযুক্ত শিক্ষক নুরুল আমিনের সাথ কথা বলার চেষ্টা করা হলেও পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে ফুলখাঁ চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীনেশ চন্দ্র কাজ্জী বলন, “নুরুল আমিন আমাদের বিদ্যালয়র ইংরজি শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চষ্টার অভিযাগ উঠেছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্কুল খুললে তা কার্যকর হবে। কোন অপরাধী কে আমরা ছাড় দিবো না। ”
ভুক্তভোগী ছাত্রীর পিতা দাবি করেন, “অভিযুক্ত শিক্ষক নুরুল আমিন তার ছোট বেলার বন্ধু। আত্নবিশ্বাস থেকে বন্ধুর কাছে পাঠিয়েছেন মেয়েকে পড়তে। মেয়ের বয়সী মেয়ের সাথে এমন ঘটনা ঘটাবে তা তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না। মেয়ের কাছে ঘটনা শুনে তিনি প্রথমে নুরুল আমিনের কাছে যায় বিষয়টি পরিস্কার হতে। কি ঘটেছিলো কেন ঘটেছিলো। কিন্তু বন্ধুর দেখা পাননি। ঘটনার পরপরই সটকে পড়ে নুরুল আমিন। ”
রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, শনিবার(১৪মার্চ) নির্যাতিত ছাত্রীক ২২ধারায় আদালত জবানবদী নয়া হয়েছে।দ্রুততম সময়ে অভিযুক্ত আসামীক গ্রফতার করতে পুলিশ সাড়াশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে ।