‘আমরা বিশ্বকাপ জিততেই কাতার যাচ্ছি’

অনলাইন ডেস্ক

৫২

মেসিদের সামনে পড়ে ব্রাজিল বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া নেদারল্যান্ডস সর্বশেষ রাশিয়া বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই’ই করতে পারেনি। তিনবার ফাইনাল খেলা দেশটি এবার বেশ আঁটঘাট বেধেই যাচ্ছে কাতারে।

দলের অন্যতম তারকা খেলোয়াড় নাথান বেনজামিন একে বলে দিয়েছেন তারা এবার কাতারে শুধু খেলতেই যাবেন না, লক্ষ্য থাকবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। ফিফা ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজেদের লক্ষ্য ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন ২৭ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।

প্রশ্ন : দুর্দান্ত ফর্মে থেকে কাতার বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস। ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে দলটি অপরাজিতভাবেই আছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে। সর্বশেষ এ বছর সেপ্টেম্বরে উয়েফা ন্যাশন্স লিগে হারিয়েছে বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট বেলজিয়ামকে। এই বিশ্বকাপে আপনাদের প্রত্যাশা কি?

নাথান একে : প্রত্যাশাটা ঠিক কি সে সম্পর্কে আমি নিশ্চিত নই; কিন্তু আপনি যদি কোনা টুর্নামেন্ট খেলতে যান, নিশ্চয়ই জিততে চাইবেন। এটাই হলো মূল উদ্দেশ্য। কাতারে আমরা শুধু খেলতে যাচ্ছি না, আমরা টুর্নামেন্ট জিততে চাই। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতেই কাতার যাচ্ছি। প্রথম ম্যাচটি যদি জিততে পারি তাহলে আমরা সামনে তাকাতে পারবো এবং বুঝতে পারবো টুর্নামেন্টজুড়ে আমাদের কি করতে হবে। নিজেদের অবস্থাটাও বুঝতে পারবো।

প্রশ্ন : কোচ ফন গালের দৃষ্টিভঙ্গি কি?

নাথান একে : কোচ কি চান, কিভাবে দলকে খেলাতে চান সে ধারণা তার পরিষ্কার। দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ধারণাও পরিষ্কার, তাদের কি করতে হবে। যে জিনিসটা আমাদের মধ্যে খুবই স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিয়েছে। দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় আছে। তারা এক সঙ্গে খেলে আসছে। যেটা মাঠে আমাদের সাহায্য করবে।

প্রশ্ন : সবাই জানেন ফন গাল রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলিয়ে পারদর্শী। সেখান আপনার ভূমিকাকে কিভাবে দেখেন কোচ?

নাথান একে : গত কয়েকটি ম্যাচ আমি লেফট সেন্টারব্যাক হিসেবে খেলেছি। সেটা ভালোই হচ্ছে। কোচ আমাকে এই ভূমিকায় দেখেন এবং আশা করছি বিশ্বকাপেও আমি সেভাবে প্রস্তুত হচ্ছি। আমার আত্মবিশ্বাস, সেভাবেই আমি তৈরি হতে পারছি। এই পজিশনে অনেক প্রতিদ্বন্দ্বীতা আছে। বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় এসেছেন।

প্রশ্ন : তাহলে কি রক্ষণভাগকে শক্ত রেখেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আপনারা?

নাথান একে : এটা নিশ্চিত রক্ষণের ওপরেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ দুটি ম্যাচের আগে আমরা কিছু গোল হজম করেছি। কোচ বলেছেন, এতে তিনি মোটেও খুশি নন। তাই আমরা রক্ষণে আরো মনোযোগ দিচ্ছি। যাতে দল হিসেবে আমরা আরো ভালোভাবে সংগঠিত হতে পারি। পোল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে আমরা সর্বশেষ দুই ম্যাচে কোন গোল খাইনি। আমাদের এখনো অনেক কিছু করার আছে। আমি নিশ্চিত যে কাতারে পৌঁছালে আমরা এ নিয়ে আরো কাজ করতে পারবো।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপ খেলা একজন ফুটবলারের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ পর্যায়ে পৌঁছাতে অনেক প্রতিভা থাকতে হয়, অনেক ত্যাগও থাকতে হয়। আপনারও সেই লক্ষ্য ছিল?

নাথান একে : আমি যখন জেলা পর্যায়ে অনূর্ধ্ব-১৩ ফুটবল খেলেছি তখন থেকেই আমার লক্ষ্য ছিল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়া। এখন আমি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছি। এটা আমার জন্য রোমাঞ্চকর। উত্থান-পতনসহ এটা লম্বা এক রাস্তা ছিল। কাজটি মোটেও সহজ ছিল না।

প্রশ্ন : এ পর্যন্ত আসতে আপনাকে তো অনেকেই সাহায্য করেছে তাই না?

নাথান একে : অনেক মানুষ আমাকে সাহায্য করেছেন। আমার বাবা-মা, আমার ভাই, আমরা স্ত্রী আমার এই দীর্ঘ পথের সঙ্গী ছিলেন। আশা করি, বিশ্বকাপে আমরা মা ও ভাইয়ের সঙ্গে উপভোগ্য সময় কাটাতে পারবো। আমার স্ত্রী এই সপ্তাহ শেষে সন্তানের মা হবে। তাই সে বিশ্বকাপের সময় কাতারে থাকতে পারবে না। আমি বাবা হওয়ার পরপরই কাতার চলে যাবো। স্ত্রীকে এখানেই থাকতে হবে। সাধারণত আমরা স্ত্রী আমার সঙ্গে সবসময় ভ্রমন করে। এবার আমাদের সবকিছু মানিয়ে নিতে হবে।

সংগৃহিত

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!