কুষ্টিয়ায় পদ্মার ভাঙনে ১৫ দিনে বিলীন ১ হাজার একর জমি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি।।

১০৭

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর ভাঙনে গত ১৫ দিনে অন্তত ১ হাজার একর জমি বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩শত একর জমিতে শতাধিক কৃষকের ফসল ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলন করায় পানির গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এতে নদীভাঙনের প্রবণতা বাড়ছে।

দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কোলদিয়াড়, মাজদিয়াড় ও ভুরকা এলাকার বাসিন্দারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পদ্মার ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে রায়টা-মহিষকুন্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

নদীভাঙনের শিকার ভুক্তভোগীরা বলেন, মরিচা ইউনিয়নের অর্ধেকের বেশি অংশ পদ্মার চর। বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানিতে এসব জমি তলিয়ে যায়। কিন্তু এবার শুকনা মৌসুমে পদ্মা নদীতে আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড়-কোলদিয়াড় গ্রাম থেকে ভুরকা-হাটখোলাপাড়া গ্রাম পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। হঠাৎ ফসলি জমি হারিয়ে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

দৌলকপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম বলেন, স¤প্রতি অন্তত এক হাজার একর জমি বিলীন হয়েছে। এর মধ্যে ৪ শত এশর জমিতে কৃষকের আবাদ করা শর্ষে, গম, ভুট্টাসহ মৌসুমি ফসল ছিল।

কৃষক হাসান বলেন, গত তিন দিনে তাঁর চার বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। আরও চার বিঘা জমি হুমকিতে রয়েছে। সেগুলোও যেকোনো সময় চলে যাবে। তাই জমিতে থাকা কাঁচা গম ও ভুট্টা কেটে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

এলাকার বাসিন্দারা বলেন, ভুরকা এলাকায় নদী থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরে ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। ভাঙন অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন হুমকিতে পড়বে। এ ছাড়া রায়টা-মহিষকুন্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ কয়েকটি সরকারি বিদ্যালয়ও ভাঙন এলাকায় রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পদ্মা নদীর দৌলতপুর অংশে বৈধ (সরকারি ইজারাভুক্ত) কোনো বালুমহাল নেই। তারপরও অবৈধভাবে নদী থেকে খননযন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে পানির গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে নদীভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া উত্তোলিত বালু বহনের জন্য বড় বড় কার্গো বা ট্রলার ব্যবহার করা হয়। এসব কার্গো বা ট্রলার নদীপাড়ের পাশ দিয়ে চলাচলের সময় নদীতে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এতে নদীভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়ছে।

কৃষক আনোয়ার বলেন, শুকনা মৌসুমে এ ধরনের নদীভাঙন আগে কখনো দেখেননি। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অবিলম্বে বালু উত্তোলন বন্ধ করে নদীভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল জব্বার বলেন, নদীভাঙন রোধ করতে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দীন বলেন, মরিচা ইউনিয়নে জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সেখানে ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!