তারেক জিয়া দেশে আসলে গন পিটুনীতে মারা যাবে -শেখ সেলিম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ।।

৪৯

৮বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেলে স্থানীয় নিয়াজ মুহাম্মদ স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় আয়োজিত সম্মেলনে উদ্বোবধকের বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, বিএনপির চুরি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে খেলা হবে। ডিসেম্বরে খেলা হবে। আমাদের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত থাকুন। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের জিয়াউর রহমান পুরষ্কৃত করেছিল। বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরী দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, ১৫ আগস্টের মাস্টার মাইন্ড জিয়াউর রহমান ও ২১ আগস্টের শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ড তারেক রহমান। ফরিদপুরে আমরা বিএনপির অবস্থা দেখেছি, সেখানে শুধু টাকা উড়ে, আকাশে বাতাসে টাকা উড়ে। কারন সেখানে মনোনয়ন বানিজ্য হচ্ছে। বস্তায় বস্তায় টাকা নিচ্ছে। বিএনপি ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাই তারেকের বিরুদ্ধে খেলা হবে। বাংলার ইতিহাস বীরের ইতিহাস। পাশাপাশি বিশ্বাস ঘাতকতার ইতিহাস। জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু খুনীদের বিচার বন্ধ করতে আইন করেছিলেন। হাজার হাজার কোটি টাকা যারা পাচার করে সুইস ব্যাংকে জমা করেছে। অর্থ পাচারকারী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে খেলা হবে। ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার ডাকে খেলা হবে।
প্রধান বক্তা মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি বলেন, আমাদের বর্তমান যে অর্থনৈতিক মুক্তি সেটাও হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এই বাংলাদেশ ছিল চরম দরিদ্র রাস্ট্র। চরম হতাশার রাস্ট্র। অধঃপতিত বাংলাদেশকে জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে যার যাত্রা শুরু করে আজকে সেই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আজকে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ন। বাংলাদেশর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকার ২৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছে।
শত ভাগ মানুষ এখন বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। এখন এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত। ২০৪১ সালে আমাদের বাংলাদেশ উন্নত রাস্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। নতুন করে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। যারা বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাস্ট্রে পরিনত করেছিল সেই বিএনপি-জামায়াত সক্রিয় হয়েছে। তারা বলছেন, টেইক ব্যাক বাংলাদেশ। তারা বাংলাদেশকে পিছিয়ে নিয়ে যেতে চান। আপনার বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ চরম হতাশার রাস্ট্র ছিল। এই বাংলাদেশকে জঙ্গীবাদের চরম চারন ভ‚মি বানানো হয়েছিল। অজ¯্র জঙ্গী সংগঠন তৈরি হয়েছিল হাওয়া ভবনের নেতৃতে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি জামায়াত বাংলাদেশকে পিছিয়ে নিতে চাচ্ছে।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ মানেই বঙ্গবন্ধু। ৭৫ এ ১৫ আগস্ট থেকে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে পাকিস্তানী ধ্যান ধারনা কায়েম করতে চেয়েছিল। খুনীরা ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে খুনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল। এতিমের টাকা মেরে খালেদা বেগম মুচলেকা দিয়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছে। এরা খুনী সংগঠন। স্বাধীনতা বিরোধী। খুনীদের সাথে কোন আপোষ নেই। তিনি আরো বলেন, ১/১১ সরকারের কাছে তারেক মুচলেকা দিয়ে গেছে। লন্ডন থাকে, বিরাট বড় বাসা, তার ইনকাম কি? বাংলাদেশের টাকা লুট করে নিয়ে তিনি এখন ভাল থাকে। আমরাই তো লন্ডন সরকারকে বলেছি তাকে আমাদের কাছে দাও। কিন্তু তারা দিচ্ছে না। সে এখন আসলে গণ পিটুনীতে মারা যাবে। এ দেশের টাকা মানি লন্ডারিং করে পাচার করায় ৩৭ বছরের জেল হয়েছে। দেশে আসলে ৩৭ বছরের জেল খাটার ব্যবস্থা করে দিব।
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদীর চৌধুরী এমপির সভাপতিত্বে সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, এমপি, প্রধান বক্তা মাহবুবউল আলম হানিফ, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ্যাড. কামরুল ইসলাম, এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সবুর ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য পারভীন সুলতানা কল্পনা।
পরে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি র.আ.ম, উবায়দুল মোকতাদীর চৌধুরী, সাধারন সম্পাদক আল মামুন সরকারের নাম পুনরায় ঘোষনা করা হয়। এছাড়াও সিনিয়র সহ সভাপতি সাবেক মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন, সহ সভাপতি মোঃ হেলাল, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল বারী মন্টুর নাম ঘোষনা করা হয়।

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!