তিস্তা নদীর পানি বিপদ সীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ভেঙে গেছে বাঁধ

নীলফামারী প্রতিনিধি।।

১৪৭

উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢ্ল ও গত দুদিনের অবিরাম বৃষ্টি পাতে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ২২টি চরে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে ডিমলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ নামক স্থানে ১০০ মিটার স্পার বাঁধ।

বুধবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৬ টায় বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল ৯ টায় ১০ পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬০সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজ পাঠক (পানি পরিমাপক) নুরুল ইসলাম জানান, ‘উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি বাড়ছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতের তিস্তার দোমহনী পয়েন্টে রেড এলার্ট জারি করেছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। রাত ১২টার দিকে নদীর পানি বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করলে ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়। আজ বুধবার সকাল ৯টায় পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি,গয়াবাড়ি,টেপাখড়িবাড়ি,খালিশাচাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী এবং জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারীসহ ১০টি ইউনিয়ন এলাকার ২২টি চর গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ। চরাঞ্চলের এসব বাড়িঘরে ৩ থেকে ৫ ফুট পানি উঠেছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে এসব এলাকার রাস্তা-ঘাট।

ঝুনাগাছ চাঁপানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর ইসলাম জানান, রাত থেকে মাইকিং করে ছাতুনামা, কেল্লাবাড়ী ও ভেন্ডাবাড়ি চরের মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তারা পানি উন্নয়ণ বোর্ডের নদী শাসন বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষদের শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ্য থেকে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদ দৌলা জানান, উজানে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের কারণে তিস্তাার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যা তিস্তা পয়েন্টে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ পানি প্রবাহ। এজন্য আমরা তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ গেট খুলে দিয়ে নদীর পানি প্রবাহ অব্যহত রেখেছি। কালিগঞ্জে স্পার বাঁধ ভাঙ্গণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এটি চরের ভেতরে বাঁধ। তিস্তা নদীর উভয় তীরের বাঁধে কোন সমস্যা হয়নি। পাউবো’র লোকজন সতর্কতার সাথে বাঁধে উপস্থিত থেকে নজরদারি করছে।

সাইফুল ইসলাম সুমন,অননিউজ24।।

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!