ভোট কেনার টাকা ফেরত না পেয়ে ৬৬ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে পরাজিত প্রার্থীর মামলা

অনলাইন ডেস্ক।।

৫৬

সিলেট জেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত এক প্রার্থী জেলার ৬৬ জন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার নাম এম মুজিবুর রহমান মুজিব (৫০)। তিনি পেশায় আইনজীবী এবং সিলেট জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। তবে সোমবার পর্যন্ত মামলার নথি ঘটনাস্থল গোলাপগঞ্জ থানায় পৌঁছায়নি বলে জানা গেছে। রোববার বেলা ১১টার দিকে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক শাকিলা ফারজানা চৌধুরীর আদালতে তিনি মামলাটি করেন। মামলা করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদীর আইনজীবী দেবব্রত চৌধুরী।

তিনি বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ৬৬ জন জনপ্রতিনিধির প্রত্যেকে তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন। বিবাদীরা বিভিন্ন মিথ্যা অজুহাত উপস্থাপন করে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে টাকা ধার নেন। অভিযুক্ত ৬৬ জন জনপ্রতিনিধি প্রত্যেককে ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ১৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ধার দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল।

গত ৪ ডিসেম্বর গোলাপগঞ্জ কার্যালয়ের সামনে বাদী মুজিবুর রহমান টাকা ফেরত চেয়ে অনুরোধ করলেও বিবাদীরা টাকা দিতে অস্বীকার করেন। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার শর্তে নিজ নির্বাচনী এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের ৬৬ জন সদস্যকে টাকা দেন ‍মুজিবুর রহমান। কিন্তু নির্বাচনে তিনি ৩১টি ভোট পান। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। তবে মামলায় ভোট দেওয়ার শর্তে টাকা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এম মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের আমি ফেরত দেওয়ার শর্তে টাকা ধার দিয়েছিলাম। তখন ভোটের সময় ছিল, সেনসেটিভ সময় হওয়ায় আর টাকা ফেরত চাইনি। এখন টাকা চাইলেও তারা ফেরত দিচ্ছেন না। তাই মামলা করেছি। ভোট দেওয়ার শর্তে টাকা দিয়েছি—এ তথ্য সঠিক নয়।

গোলাপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল গোলাপগঞ্জ হলেও এখন পর্যন্ত মামলার নথি তাদের কাছে পৌঁছায়নি। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা হাতে পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!