ময়মনসিংহে সচিব পরিচয়ে পুলিশ সুপারকে প্রতারকের ফোন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি।।

১৯৩

নিজেকে সরকারের অতিরিক্ত সচিব বলে পরিচয় দিয়ে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপারকে তার পছন্দের ৩ জন প্রার্থীকে পুলিশ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকুরী দেয়ার জন্য বলে। ঐ ব্যক্তির কথোপকধন ও বে-আইনীভাবে টিআরসি নিয়োগের জন্য অনুরোধের বিষয়টি পুলিশ সুপারের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ভূয়া সচিব পরিচয়দানকারী মোঃ ছামিউল আলম (৬৬) নামে প্রতারককে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে।

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে জেলা গোয়েন্দা শাখার কার্যালয়ে এক প্রেস বিফিং মাধ্যমে এসব তথ্য জানান গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি আরো জানান,ময়মনসিংহে পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকুরি দেয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরা হলো-জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মোঃ ছামিউল আলম (৬৬), ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার মোঃ জালাল উদ্দিন (৭৫) ও ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মোঃ মারুফ মিয়া (১৯)।

প্রেস বিফ্রিং এ আরো জানানো হয়- ছামিউল আলম নিজেকে সরকারের অতিরিক্ত সচিব বলে পরিচয় দিয়ে গত ২৫ অক্টোবর পুলিশ সুপারকে তার পছন্দের ৩ জন প্রার্থীকে পুলিশ ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে চাকুরী দেয়ার জন্য বলে। ছামিউলের কথোপকধন ও বে-আইনীভাবে টিআরসি নিয়োগের জন্য অনুরোধের বিষয়টি পুলিশ সুপারের সন্দেহ হয়। পরে ছামিউলকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। ছামিউল একসময় পুলিশ বিভাগের অনিয়মিত খুচরা মোটর পার্টস সরবরাহকারী ঠিকাদার হিসেবে কাজ করতো।

এদিকে, কনস্টেবল পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর অনলাইনে আবেদনকারীদেরকে চাকুরী পাইয়ে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতারক জালাল উদ্দিন একই গ্রামের ৫ জন প্রার্থী সংগ্রহ করে। এসময় প্রত্যেক প্রার্থীর নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা করে বুকিং মানি নেয়। খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ ফুলপুরের রূপসী ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে প্রতারক জালাল উদ্দিনকে গ্রেফতার করে।

এছাড়াও প্রতারক অন্যজন মারুফ মিয়া কনস্টেবল পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হওয়ার পর অনলাইনে আবেদন করিলে সে স্ক্রিনিং এ বাতিল হয়। সে চাকুরী প্রার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য কম্পিউটারে সাহায্যে ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরী করে। গত ২৫ অক্টোর বিকেলে পুলিশ লাইন্সে নিয়োগ বোর্ডের সামনে ভুয়া প্রবেশপত্র নিয়ে হাজির হইলে নিয়োগকারী বোর্ড মারুফ মিয়ায় প্রবেশপত্রটি ভ‚য়া বলিয়া নিশ্চিত করে। পরে সাময়িক জিজ্ঞাসাবাদে মারুফ মিয়া মুক্তাগাছা একটি কম্পিউটারের দোকানে ভুয়া প্রবেশপত্রটি তৈরীর ঘটনার কথা স্বীকার করে। অভিযানকালে ভ‚য়া প্রবেশপত্র তৈরী কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটারটি জব্দ করা হয়।

গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার (২৫ অক্টোবর) মুক্তাগাছা, ফুলপুর ও জামালপুর থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই নিয়োগে প্রতারনার সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা সেই বিষয়ে তদন্ত চলছে।

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!