সাড়ে ৫ঘন্টা বন্ধের পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি বানিজ্য শুরু

সালাহউদ্দিন বকুল, হিলি প্রতিনিধি ।।

১৭৩

ভারত থেকে বাংলাদেশে রফতানিকৃত পণ্যের ওজন কম হওয়ার অভিযোগ এনে পণ্য রফতানি বন্ধের কারনে সাড়ে ৫ঘন্টার বন্ধের পর পুনরায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রফতানি আমদানি বানিজ্য শুরু হয়েছে।বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে দুদিন সময় নেওয়ায় তারা পণ্য রফতানি শুরু করেছে বলে দাবী ভারতীয় ট্রাক চালকদের।

ধর্মঘট তুলে নিলে রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করতে শুরু করে।এর আগে রবিবার সকালে ভারত থেকে ৩টি ট্রাক প্রবেশের সকাল ১১টায় ভারতের দক্ষিন দিনাজপুর ট্রাক ওনার্স আ্যসোসিয়েশনের সদস্যরা চেকপোষ্ট গেটের ভারত অংশে অবস্থান নিয়ে বন্দর দিয়ে পন্য আমদানি রফতানি বন্ধ করে দেন। এসময় তারা সেখানে দাড়িয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন ও বাংলাদেশের কাটা মানিনা মানবোনা বলেও স্লোগান দেয় তারা।এদিকে তাদের এই কর্মসূচির কারনে বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানির অপেক্ষায় বেশকিছু রাইস ব্রান্ড ওয়েলবাহী ট্রাক আটকা পড়েছিল।

ভারতের দক্ষিন দিনাজপুর ট্রাক ওনার্স আ্যসোসিয়েশনের সভাপতি সুজন ঘোষ বলেন, আমরা ভারত থেকে বাংলাদেশে রফতানিকৃত পণ্যগুলো আমাদের এখানে ওজন স্টেশনে ওজন করিয়ে তারপর আমরা ট্রাকে লোড করি। এরপর সেই পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে আমদানিকারকদের নিকট বুঝিয়ে দিতে ট্রাক নিয়ে হিলি স্থলবন্দরে যায়। কিন্তু বন্দরের ভেতরের কাটায় আবারো সেই পণ্যের ওজন করানো হলে তা পরিমানে কম হয়। দীর্ঘদিন ধরেই ইচ্ছাকৃত এই কাজটি করে আমাদের ট্রাকের ভাড়া কাটা হয়, যার জন্য প্রতি ট্রাকে ৫/৭হাজার টাকা ডেমারেজ দিতে হয়। দীর্ঘ দিন ধরেই এই অবস্থা হয়ে আসছিল আমরা এর প্রতিবাদ করলেও বাংলাদেশের আ্যসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কোন ব্যবাস্থা নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আজ সকাল থেকে সকল ধরনের পন্য রফতানি বন্ধ করে দিয়েছি। তবে এবিষয়ে বাংলাদেশী ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে দুদিনের সময় চাওয়া হয়েছে এজন্য আমরা অবরোধ তুলে নিয়ে পণ্য রফতানি শুরু করেছি। এরপরে যদি সেবিষয়ে কোন সিন্ধান্ত না হয় তাহলে আবারো পণ্য রফতানি বন্ধের হুমকি দেন তারা।

বাংলাহিলি কাস্টমস সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, সকাল থেকে ভারতীয় ট্রাক চালকরা হঠাৎ করে নিজে থেকেই পণ্যের ওজনের বিষয় নিয়ে পণ্য রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে আমরা বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি খোজ খবর নিয়েছি। তবে বিকেল সাড়ে ৪টার পর তারা আবারও নিজেরাই বাংলাদেশে পণ্য রফতানি শুরু করে দিয়েছেন। এর ফলে বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি বানিজ্য আবারো শুরু হয়েছে। তবে ট্রাক চালকদের সময় দেওয়ার বিষয়টি অস্বিকার করে তিনি জানান এবিষয়ে তাদের কারো সাথে কথা হয়নি বলেও জানান তিনি।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, সকালে ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যবাহী ৩টি ট্রাক দেশে প্রবেশের পর বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়। কেন পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করছেনা এটি আমরা জানতে পারিনি তবে বিষয়টি আমরা উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে অবহিত করেছিলাম। পরে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে আবারো ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ শুরু করে।

আহসানুজ্জামান সোহেল/অননিউজ24।।

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!