সোনাগাজীতে টিকটকার যুবকের আত্মহত্যা

জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি।।

২২৩

ফেনীর সোনাগাজীতে মারধরের অপমান সইতে না পেরে ইমরান হোসেন জিসান (১৮) নামে এক যুবক নিজ ঘরে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ও টিকটকার জিসান হিসেবে পরিচিত। সে পশ্চিম চরদরবেশ গ্রামের ট্রাক চালক মাঈন উদ্দিনের ছেলে। সোমবার দুপুরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে বিকালে তাকে পারিবারিক কবরাস্থানে দাফন করা হয়েছ। রোববার সন্ধ্যা সাড় ৬ টার দিকে উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের পশ্চিম চরদরবেশ গ্রামের ইব্রাহীমের নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাত ১০টার দিকে তার লাশ উদ্ধার করে।

নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, জিসান রাজমিস্ত্রি কাজের ফাঁকে টিকটক ভিডিও তৈরী করে সাসাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দিত। সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকার তিনজন স্কুল ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার সময় একটি টিকটক ভিডিও তৈরী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে ওই ছাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। গত ৬ নভেম্বর শনিবার বিকাল ৪টার দিকে একছাত্রীর ভাই সহ এলাকার চার যুবক তাকে পশ্চিম চরদরবেশ রাশেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ডেকে নিয়ে মারধর করে জিসানের ব্যবহৃত ফোন থেকে টিকটক ভিডিওটি মুছে দেয়। এই অপমান সইতে না পেরে জিসান একটি ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিজ ঘরের আড়ার (বুতের) সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে। ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা তার স্বহস্তে লেখা একটি চিরকুটে সে তাঁর মৃত্যুর জন্য এক ছাত্রীর ভাই বিজয় সহ এলাকার আরো তিন যুবক সিফাত, ইমরাজ ও তারককে দায়ী করেন। চিরকুটে উল্লেখ করেন, এই অপমান আমি সহ্য করতে পারছিনা। আমার মৃত্যুর জন্য ওরা দায়ী। আর সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। আমার পরিবারের কাছ। একটাই দাবী যে আমি এদের ন্যায্য বিচার চাই। তবে ছেলের রেখে যাওয়া চিরকুটের সূত্র ধরে দোষীদের শাস্তি দাবী করেছেন নিহত জিসানের পিতা মাঈন উদ্দিন। তিনি এ ব্যাপারে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে চর দরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য পলান উদ্দিন বলেন, কয়েক দিন আগে টিকটক ভিডিও করার সময় স্থানীয় এক মেয়ের ছবি ভিডিওতে থাকা নিয়ে ওই মেয়ের ভাইসহ সাত-আটজন ইমরানকে মারধর করেছেন। ইমরান তাঁদের কাছে বিষয়টির জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। এরপরও রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতে গেলে আবারও ইমরানকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। তাঁদের নির্যাতন ও অপমান সইতে না পেরে ইমরান আত্মহত্যা করেছেন।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম বলেন, ১৮ বছরের ওই ছেলের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর পর উদ্ধার হওয়া ‘সুইসাইড নোটে’ উল্লেখ করা ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। যাঁদের নাম উল্লেখ আছে, তাঁদের বিষয়েও পুলিশ বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছেন।

আহসানুজ্জামান সোহেল/অননিউজ24।।

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!