সোনাগাজী পৌরসভায় তৃতীয় দফার নির্বাচনি প্রচারণা জমে উঠেছে, প্রার্থীদের গণসংযোগে উচ্ছ্বাস

জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি।।

১৮৯

সোনাগাজী পৌরসভায় তৃতীয় দফার নির্বাচনি প্রচারণা জমে উঠেছে। মেয়র ও কান্সিলর প্রার্থীদের গণসংযোগে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। প্রার্থীরা বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। মেয়র পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আ.লীগের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর আগামী ২০ সেপ্টেম্বর নিবর্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণার পর প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েন। গত ৯ সেপ্টেম্বর উপজেলা আ.লীগের উদ্যোগে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে উপজেলা আ.লীগের এক নির্বাচনি মতবিনিয় সভায় জেলা ও উপজেলা আ.লীগের নেতারা একাট্রা হয়ে ভোটারদের মন জয় করে নৌকার বিজয় ছিনিয়ে আনার ঘোষণা দেন। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি ও অন্য রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট কোন প্রার্থী না থাকায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। মেয়র পদে যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, আ.লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী বর্তমান মেয়র, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, স্বতন্ত্র, ব্যবসায়ী মোবাইল ফোন প্রতিকের আবু নাছের, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ’র হাত পাখা প্রতিকের হাফেজ মো. হিজবুল্লাহ ও আরেক স্বতন্ত্র পানির জগ প্রতিকের শেখ সেলিম।

আ.লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, তাঁর গণসংযোগে ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। পৌরসভার জনগণ দলমত নির্বিশেষে তাঁর নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। কারণ এর আগে আরো দুইবার জনগণ ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে মহামারির কারণে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের কারণে ভোট দিতে পারেনি। এখন সময় এসেছে জনগণ ভোটের মাধ্যমে আ.লীগের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন আমি শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের বার্তা নিয়ে সাধারণ মানুষদের দ্বারে দ্বারে ভোট চাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, করোনাকালীণ সময়েও নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন, বর্তমানেও আছেন ভবিষ্যতেও থাকববেন তিনি বলেন, রাত পোহালে আমরা পরস্পর আত্মার আত্মীয়, রাজনীতি মানে জনগণের সেবা করা আর জনপ্রতিনিধি মানেও জনগণের সেবা করা। সুতরাং রাজনীতি আর জনপ্রতিনিধিত্ব একই সূত্র গাঁথা। তার রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধিত্ব শুধু মানুষের জন্য। তিনি পৌরবাসীকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন, স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, ফের মেয়র নির্বাচিত হলে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভায় রূপান্তর করবেন। এদিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু নাছের বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটতে পারে। ইসলামি আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী হাফেজ মো. হিজবুল্লা বলেন, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা চলেছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারবেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাইনুল হক বলেন, তৃতীয় দফায় তারিখ ঘোষণার পর ভোটার ও প্রার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ দেখা দিয়েছে। সকল প্রার্থী শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনি প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রথমবারের মত সোনাগাজী পৌরসভার নির্বাচন ইভিএম (ইলেক্ট্রিক ভোটিং মেশিনের) মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গ্রহণকারীদেরও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম ভোটার ও প্রার্থীদের উৎসবমুখর বিরামহীন প্রচারণায় জনমনে সন্তোষ বিরাজ করছে। কোন প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছাড়া এখন পর্যন্ত নির্বাচনি কোন সংঘাত ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সকল প্রার্থীর সাথে পৃথক আলোচনা করা হয়েছে। জনগণকে একটি শান্তিপুর্ণ নির্বাচন উপহার দেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

আহসানুজ্জামান সোহেল/অননিউজ24

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!