সোনারগাঁয়ে ঝরাজীর্ণ ডাকঘর ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংস্কার করলেন ছাত্রলীগ নেতা

নজরুল ইসলাম শুভ, সোনারগাঁ ( নারায়ণগঞ্জ)।।

২২৮

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়া বাজারে অবস্থিত ডাকঘরটি দীর্ঘ দিন ধরে ঝরাজীণ হয়ে অফিস করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে ডাকঘরের পোস্ট মাস্টারের কয়েক বার বিষয়টি অবহিত করলেও তিনি সংস্কারের উদ্যোগে নেননি।

পরে ডাকঘরটি সংস্কার করার জন্য উদ্যোগ নেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহ মোহাম্মদ সোহাগ রনি। ডাকঘরটি সংস্কার করার পর গতকাল রোববার তার সমর্থকদের নিয়ে উদ্বোধন করেছেন।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়নগর পোস্ট অফিসের কোড নম্বর-১৪৪১। ব্রিটিশ আমল থেকে এ পোস্ট অফিসটির কার্যক্রম চলে আসছে। মাত্র ২ শতাংশ জায়গায় টিনের ভাঙা একটি ঘরে চলছিল এই কার্যক্রম। এমতাবস্থায় সরকারি অনুদান না পাওয়ায় ভবনটির সংস্কারের কাজ হাতে নেন ছাত্রলীগ নেতা।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বড়নগর পোষ্ট অফিসটি নতুন রংঙ্গে সাজানো হয়েছে। মেরামত করা হয়েছে টিনের চালা, লাগানো হয়েছে লোহার গ্রিলের নতুন জানালা। ভাঙ্গা দেওয়ালের সংস্কার করা হয়েছে। সৌন্দর্য্য বাড়াতে পোষ্ট অফিসের সামনে লাগানো হচ্ছে সোভাবর্ধন ফুল গাছ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দেড়শ বছরের পুরনো এই পোস্ট অফিস সংস্কারের জন্য বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান জানানো হলেও সংস্কারের কোনো উদ্যেগ নেননি তিনিও। পরে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি সোহাগ সংস্কার করে দেন।

পত্রবাহক মো.বিপ্লব মিয়া জানান, উপজেলার পোষ্ট অফিস হিসেবে বড়নগর পোষ্ট অফিস সবচেয়ে জরাজীর্ন। টিনের চালা দিয়ে বৃষ্টির পানি পরার কারনে প্রয়োজনীয় অনেক চিঠিপত্র নষ্ট হয়ে যেতো। স্থানীয় মোগরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু ভাইকে কয়েকবার জানানো হয়েছে। একবার ইউপি সদস্য শিপন সরকার এসে দেখে গেছেন। তারপরও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেননি স্থানীয় চেয়ারম্যান।

পরে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও মোগরাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সোহাগ রনি চিঠি নিতে এসে জরাজীর্ন অফিস দেখে সংস্কার করে দেওয়ার কথা ব্যক্ত করেন। তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে পোষ্ট অফিসের সংস্কার করে দিচ্ছেন। এখন আমরা নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারবো।

সোহাগ রনি জানান, দীর্ঘ দিন ধরে ডাকঘরটি ঝরাজীর্ণ হয়ে হয়েছিল। এতে ডাকঘরের কর্মকর্তাদের কাজ করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতো। পরে আমাকে বিষয়টি জানানোর পর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ডাকঘরটি সংস্কার ও বালু দিয়ে মাঠ ভরাট করা হয়।

পোষ্ট মাস্টার সানাউল্লা পাটওয়ারী জানান, আমি এখানে যোগদান করেছি ১১ বছর। আমার যোগদান হবার আগে থেকেই এটি জরাজীর্ন। উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কয়েকবার। যতটুকু জানি এই পোস্ট অফিসের বয়স দেড়শ বছরের কাছাকাছি।

আহসানুজ্জামান সোহেল/অননিউজ24

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!