এক রাতে ৬৫ গভীরনলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার চুরি সাদা কাগজে মোবাইল নম্বর ঝুলিয়ে দিয়ে চাঁদা দাবি

বাগমারা, রাজশাহী প্রতিনিধি।।

বাগমারায় এক রাতেই ৬৫ গভীরনলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চুরির পর সাদা কাগজে মোবাইল নম্বর (০১৯৪৬-৫৯৪৭২৯) লিখে দিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এক সাথে এতগুলো গভীরনলকূপের মিটার চুরি হওয়ায় বোরো জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। অনেকেই চোরদের লিখে দেওয়া মোবাইল নম্বরে বিকাশযোগে টাকা দিয়ে চুরি যাওয়া মিটার ফেরত নিয়েছেন। এসব মিটার চুরির সঙ্গে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের লোকজন জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস ধরে বাগমারায় সাদা কাগজে মোবাইল নম্বর লিখে দিয়ে চাঁদা দাবি করে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার ও মিটার চুরি হচ্ছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার ও মঙ্গলবার রাতে বাগমারা থানা ফটকের সামনেসহ উপজেলার গোবিন্দপাড়া, আউচপাড়া, বাসুপাড়া, শুভডাঙ্গা, সোনাডাঙ্গা, নরদাশ, গনিপুর ও মাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬৫ গভীরনলকূপের মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চোরদের লিখে দেওয়া মোবাইল নম্বরে ভুক্তভোগীরা যোগাযোগ করলে চুরি যাওয়া মিটার ফেরত নিতে হলে বিকাশ করে টাকা পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে প্রতি মিটারের জন্য সাত হাজার টাকা আর ট্রান্সফরমারে জন্য দশ হাজার করে টাকা দাবি করা হচ্ছে। বিকাশে টাকা পাঠানোর পর খড়ের পালার মধ্যে কিম্বা ঝোপঝাড়ের মধ্যে চুরি যাওয়া মিটার রেখে যাওয়া হচ্ছে। শালজোড় গ্রামের সাইদুর রহমান, তেলিপুকুর গ্রামের আসাদুল ইসলাম ও গনিপুর গ্রামের বজলুর রশিদ জানান, বিকাশে চোরদের দশ হাজার টাকা করে দেওয়ার পর তাদের নির্দেশনা অনুয়াযী খড়ের পালার মধ্যে থেকে তারা চুরি হওয়া মিটার ফেরত পেয়েছেন। বাগমারা পশ্চিমপাড়া গ্রামের গভীর নলকূপের মালিক আবুল কাসেম ও চাউল কলের মালিক সিদ্দিকুর রহমান জানান, চোরদের লিখে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে তাদের কাছে দশ হাজার টাকা করে চাওয়া হয়েছে। কিন্তু টাকা না দিয়ে আশেপাশে ঝোপঝাড়ের মধ্যে তারা চুরি যাওয়া মিটার খোঁজাখুজি করছেন। এসব মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের লোকজন জড়িত রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। চোরদের লিখে দেওয়া মোবাইল নম্বরগুলো ট্যুাকিং করলেই তাদের সনাক্ত করা যাবে।

এ বিষয়ে পল্লীবিদ্যুৎ অধিদপ্তরের বাগমারা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আসাদুল ইসলাম বলেন, মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় গ্রাহকদের পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। অথচ চোর সনাক্ত হচ্ছে না। চোরদের লিখে দেওয়া মোবাইল নম্বরগুলো ট্যুাকিং করলেই তাদের সনাক্ত করা যাবে।

এদিকে বাগমারা থানার ওসি জিল্লুর রহমান বলেন, চোরদের লিখে দেওয়া নম্বরগুলো ট্রাকিং করলে দেখা গেছে তারা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোক। তবে মিটার চুরির ঘটনায় বাইরের লোকের সাথে বাগমারা পল্লীবিদ্যুৎ অফিসের কেউ জড়িত আছে কিনা সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এমএফ/অননিউজ

আরো দেখুনঃ